করোনার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে শিক্ষা কার্যক্রম। গত ১৮ মার্চ থেকে কার্যত বন্ধ রয়েছে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। বর্তমানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলছে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম। তবে এক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অপর্যাপ্ততা, শিক্ষার্থীদের অসচ্ছলতা, প্রত্যন্ত অঞ্চলের দুর্বল নেটওয়ার্ক কাঠামোসহ নানা সমস্যার কারণে অনেক শিক্ষার্থীই তার সুফল থেকে বঞ্চিত। এদিকে প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক পরীক্ষা বাদ দেওয়া হয়েছে, শঙ্কায় আছে অন্যরাও। সব মিলে শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সেসব ভাবনা তুলে ধরেছেন— আমজাদ হোসেন হূদয়
হাবিবুন নাহার মিমি
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রা য় ছয়-সাতমাস যাবত্ সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। করোনা পরবর্তী সময় শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনাটা জরুরি হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে হলে চাই গতানুগতিক শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অনলাইন ক্লাস শুরু হলেও তাতে অংশগ্রহণ করতে পারছে সর্বসাকুল্যে ৩০%-৪০% শিক্ষার্থী। দারিদ্র্য, ডিভাইস স্বল্পতা, নেটওয়ার্ক সমস্যা ইত্যাদি কারণে চলমান অনলাইন শিক্ষা হতে পিছিয়ে পড়ছে তারা। করোনা পরবর্তী সময়ে শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের এই সমস্যাগুলোর সমাধান করা গেলে তারা ভবিষ্যতে আর পিছিয়ে পড়বে না বলে আশা করা যায়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত্ অনিশ্চয়তা ঠেকাতে প্রয়োজন কাউন্সিলিং।
এম কামিল আহমেদ
শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
অ দৃশ্য অণুজীব করোনার আঁচড়ে জনজীবনের মতো শিক্ষাজীবনও এলোমেলো। ঘোর অনিশ্চয়তার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীরা। করোনার কালো মেঘ কেটে গেলে নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে পুরো শিক্ষাব্যবস্থা। নানা বিষয়ের সমন্বয়হীনতার সংস্কৃতি দূরীকরণে শিক্ষাবিদদের পরামর্শ মোতাবেক সংশ্লিষ্ট মহলকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একুশ শতকের চ্যালেঞ্জে যোগ্যভাবে টিকে থাকতে শিক্ষার্থীদের আইটি নলেজকে বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে, শিক্ষা খাতে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ জরুরি। সিলেবাস প্রণয়নে কর্মমুখী শিক্ষার বিষয়েও নজর দেওয়া জরুরি। সর্বোপরি, যেকোনো দুর্যোগে শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে দরকার অনলাইন শিক্ষায় সবার স্বাচ্ছন্দ্যে অংশগ্রহণ, প্রয়োজন যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণও।
সাবরিনা মনসুর
শিক্ষার্থী, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ
কো ভিড-১৯-এর কারণে মেডিক্যালসহ কমবেশি সবাই ছয় মাস করে পিছিয়ে পড়েছে, যদিও অনলাইন ক্লাস হচ্ছে কিন্তু অনলাইন ক্লাস কখনোই হাতেকলমে করা ক্লিনিকাল ক্লাসের বিকল্প হতে পারে না। হয়তো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কিছু দিনের মধ্যেই পরীক্ষা হতে পারে, আশা করব যারা নেটওয়ার্ক কিংবা সুযোগ-সুবিধার অভাবে ক্লাস করতে পারেনি, তাদের কথাও বিবেচনা করবেন শ্রদ্ধেয় শিক্ষকবৃন্দ। যাদের ফাইনাল প্রফের সাপ্লি আছে, তারা এখনই অনেক পিছিয়ে গেছেন, তাদের কথা ভাবতে হবে। এই কয়েক বছরের মধ্যে যারা পাশ করে বের হব, করোনার কারণে যদি সেশনজটের মধ্যে পড়তে হয়, সেক্ষেত্রে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা শিথিল করা যেতে পারে।
ইকবাল হাসান
শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
ক রোনা স্বাভাবিক জীবনযাপন অনেকটা পরিবর্তন করে দিয়েছে। সব কিছুই নতুন করে চিন্তা করতে হচ্ছে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে ভাবতে হবে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় পাবলিক পরীক্ষার সংখ্যা কমিয়ে এনে ও গাইড বই থেকে শিক্ষাকে মুক্ত দিয়ে প্রায়োগিক শিক্ষায় নজর দিতে হবে। এতে শিক্ষার্থীর দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। দক্ষতাই একটা মানুষকে এগিয়ে নিতে পারে সামনের দিনগুলোতে। তাই, একবিংশ শতাব্দীর চাহিদা অনুযায়ী একজন শিক্ষার্থীকে গড়ে তুলতে হবে। এতে করে দক্ষ মানবসম্পদ বৃদ্ধি পাবে এবং চাকরির ওপর চাপ কমবে।
মুহম্মদ সজীর প্রধান
শিক্ষার্থী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
বা ংলাদেশসহ বিশ্বের সব দেশের শিক্ষাব্যবস্থাও করোনায় সংক্রমিত। বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে করোনা পরবর্তীকালে শিক্ষাব্যবস্থায় যেসব ব্যবস্থা নেওয়া হবে তন্মেধ্যে ছোটদের পাঠদানের ব্যাপারেও বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে। কেননা, শিশুরা দীর্ঘদিন পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললে বন্ধুদের সঙ্গে হৈ-হুল্লোর, আনন্দে মেতে ওঠবে। এমতাবস্থায় তাদের স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেষ্ট করতে হবে সেটা হতে পারে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের মাধ্যমে কিংবা পরিবারে বড়দের মাধ্যমে। এছাড়াও সরকারি উদ্যোগে প্রতি সপ্তাহে শিশুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যদিকে সিলেবাস শেষ করার জন্য তাদের মোটেও চাপ দেওয়া ঠিক হবে না বরং ধীরে ধীরে তাদের পড়াশোনার প্রতি আকৃষ্ট করতে হবে। তাহলেই ছোট্ট সোনামনিরা আনন্দ চিত্তে ও সুস্থভাবে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে পারবে।