ইউএনএসক্যাপ ও আইএলওর প্রতিবেদন
ইত্তেফাক রিপোর্ট
মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) তুলনায় মাত্র শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ স্বাস্থ্যবহির্ভূত সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয় করছে বাংলাদেশ। এই হার বিবেচনায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে তলানিতে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের ওপরে অবস্থান করছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্য সব দেশ। জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন (ইউএনএসক্যাপ) ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত ‘দ্য প্রটেকশন উই ওয়ান্ট : সোশ্যাল আউটলুক ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোকে পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব এশিয়া, উত্তর ও মধ্য এশিয়া, প্রশান্ত মহাসাগরীয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া—এই পাঁচ অঞ্চলে ভাগ করা হয়। এ অঞ্চলে জিডিপিতে স্বাস্থ্যবহির্ভূত সামাজিক সুরক্ষা ব্যয়ের হারের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে ইরান। দেশটিতে এ হার ১০ দশমিক ১ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা তুরস্ক স্বাস্থ্যবহির্ভূত সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয় করে মোট জিডিপির ৯ দশমিক ৯ শতাংশ। শ্রীলঙ্কায় এ হার ৫ দশমিক ২ শতাংশ। এছাড়া ভারতের জিডিপির ৩ দশমিক ২ শতাংশ, মালদ্বীপের ২ দশমিক ৯, নেপালের ২ দশমিক ১, পাকিস্তানের ১ দশমিক ৮, আফগানিস্তানের ১ দশমিক ৮ ও ভুটানের জিডিপির ১ শতাংশ স্বাস্থ্যবহির্ভূত সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয় করা হয়। এদিক থেকে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশে এ হার মাত্র দশমিক ৭ শতাংশ। মূলত কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন পর্যায়ে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সীমিত থাকায় এমন হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে ঝুঁকি হ্রাসে বিমা উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে না থাকাও বড় কারণ। উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছর সরকার বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা খাতে যে বরাদ্দ রেখেছে সেটি জিডিপির ৩ দশমিক ১ শতাংশের সমান। কিন্তু এর বড় অংশ স্বাস্থ্য খাতের সঙ্গে সম্পর্কিত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বাস্থ্য খাত ছাড়া সামাজিক সুরক্ষায় এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করছে জাপান। দেশটির জিডিপির ১৬ দশমিক ১ শতাংশ ব্যয় হচ্ছে এ খাতে। এদিকে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে শ্রীলঙ্কা (৫.২%)
প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণজনিত অতিমারি বৈশ্বিক দারিদ্র্য দূরীকরণে গত এক দশকের যে অর্জন ছিল সেটি পেছনের দিকে যাচ্ছে। পাশাপাশি বৈষম্যকেও বাড়িয়ে তুলেছে। বাড়ছে দারিদ্র্র্যের প্রকোপ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, চীন, জর্জিয়া, মালদ্বিপ, তাজিকিস্তানের প্রতি ২০ জনের একজন তাদের আয়ের অন্তত ২৫ শতাংশ আয় স্বাস্থ্য খাতের জন্য ব্যয় করছে। অর্থনৈতিক আঘাত মোকাবিলার জন্য সামাজিক সুরক্ষায় ব্যয় বাড়ানো প্রয়োজন। গুটিকয়েক দেশ ছাড়া এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের অর্ধেক জনগোষ্ঠী কোনো সামাজিক সুরক্ষা বলয়ের আওতায় নেই। চলমান কোভিড-১৯ মহামারি যথাযথ ও সমন্বিত সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তাকে আরো প্রকট করে তুলেছে।