চাই জনসচেতনতা ও দায়িত্ববোধ

আলিসা জাহান মিম

সময় বদলের সঙ্গে সঙ্গে দেশের অবকাঠামোর পরিবর্তন হয়েছে। উন্নতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে সারা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে। যদি অতীতের সঙ্গে বর্তমানের তুলনা করা হয়, তাহলে বদলটা অনায়াসে পরিলক্ষিত হয়। সেই সময়ে যোগাযোগের অসুবিধা, শিক্ষার অভাব, পর্যাপ্ত চিকিত্সার অভাব আরো বিভিন্ন সমস্যায় সবাই জর্জরিত ছিল। অনাহার, অজ্ঞতা আর কুসংস্কারে আচ্ছন্ন ছিল। বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। প্রযুক্তির ছোঁয়া এখন দেশের সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। অতীতের মতো সুযোগ-সুবিধাবঞ্চিত সময়ের পরিবর্তন হয়েছে। এখন যোগাযোগের উন্নত মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার, কম্পিউটার, ইমেইল, ইউটিউব এরকম বিভিন্ন ওয়েবসাইট জীবনকে করেছে আধুনিক। পরিবহনব্যবস্থার হয়েছে অনেক উন্নতি। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আকাশপথে রকেট প্রেরণ করা হচ্ছে। প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘরে বসেই কেনাকাটা, আদানপ্রদান, অর্থ উপার্জন প্রভৃতি সম্ভব হয়েছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশ ডিজিটাল দেশে পরিণত হয়েছে।

পরিবহনের সুব্যবস্থা মানবজীবনের উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সময়ের মাত্রা ধীরে ধীরে কমে এসেছে। তবে এ অত্যধিক যানবাহনের জন্য পথে জ্যামের সৃষ্টি হয়। ফলে কয়েক মিনিটের পথে যাতায়াতে সময় লাগে কয়েক ঘণ্টা। এতে সাধারণ জনগণকে বিড়ম্বনায় আবার কখনো কখনো অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। এসব কিছু বিবেচনা করে অপ্রয়োজনীয় পরিবহন তুলে দেওয়াই শ্রেয়। এভাবে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও হতে পারে জ্যামজট মুক্ত দেশ।

উন্নত দেশগুলোতে ট্রাফিক পুলিশের প্রয়োজন পড়ে না। কারণ, সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব নিয়ে সচেতন। নিয়মকানুন নিয়ে মেনে চলে। কিন্তু আমাদের দেশে গাড়ি চালনা, রাস্তা পার হওয়া এরকম ক্ষেত্রে কেউ কোনো নির্দেশনা মেনে চলে না। ত্রুটিযুক্ত যানবাহন, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব, জনগণের উদাসীনতা প্রভৃতির জন্য এত বেশি দুর্ঘটনা ঘটছে। নিজস্ব সচেতনতা আর দায়িত্ববোধ জাগানোর মাধ্যমে এরকম দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।

দেশীয় পণ্যে ভেজাল মেশানো বাংলাদেশে এক নিত্যনৈমিত্তিক সমস্যা। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অসত্ উদ্দেশ্যে পণ্যে ভেজাল মেশায়। যেকারণে নিজেরাই সেই পণ্য ব্যবহার করতে দ্বিধাবোধ করি আর বিদেশি পণ্য কিনতে বেশি আগ্রহবোধ করি। যা মোটেই কাম্য নয়। প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে এ ধরনের সমস্যা রোধ করা সম্ভব। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ আজও জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করে যাচ্ছে। তাদের কোনো বিরাম নেই। এসব সুযোগ-সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলোর মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষা নামক সম্পদের দীক্ষাপ্রাপ্ত হলে এরাও রূপান্তর হতে পারে জনসম্পদে। যেখানে কোনো শিশুই এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে না। এমন দেশের স্বপ্ন রোজ চোখে ভাসে, যে দেশের কোনো মানুষই অনাহারে থাকবে না, সত্যিকার অর্থে সবাই শিক্ষিত হবে, দেশের প্রতিটি কোণায় শালীনতা বজায় রেখে আধুনিকতার ছোঁয়া থাকবে। শিক্ষিত বেকারসমাজ ভেঙে নতুন স্বয়ংসম্পূর্ণ সমাজ গড়ে উঠবে। ইনশাআল্লাহ, সত্যিকার অর্থে পরিণত হবে বাংলাদেশ উন্নত রাষ্ট্রে।

n লেখক :শিক্ষার্থী, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়