অনিশ্চিত চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের লেখাপাড়া
ফজলে ইলাহী স্বপন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
চলতি বছরের ভয়াবহ বন্যা চলাকালে বিভিন্ন নদ-নদীর ভাঙনে কুড়িগ্রাম জেলার পাঁচটি উপজেলায় ১৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। শুধু তাই নয় ভাঙনের হুমকিতেও রয়েছে বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। স্কুল বিলীন হওয়ায় এবং নিকটবর্তী এলাকায় স্কুল না থাকায় প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষার্থীর লেখাপড়া অনিশ্চত হয়ে পড়ায় উদ্বিগ্ন অভিভাবক মহল। তবে জরুরিভিত্তিতে বরাদ্দ নিয়ে অস্থায়ীভাবে এসব স্কুল চালু করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের বন্যা চলাকালীন জেলায় জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দফায় দফায় বন্যা আর নদীভাঙনে উলিপুর উপজেলায় চারটি, চিলমারীতে তিনটি, রৌমারী ও সদরে দুইটিসহ ১৩টি স্কুল নদীগর্ভে চলে যায় এবং ঝুঁকিতে রয়েছে আরো তিনটি স্কুল।
সূত্র জানায়, প্রবল ভাঙনের কবলে বিলীন হয়েছে উলিপুর উপজেলার জুয়ান সতরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নয়াদাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খারিজা লাটশালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর বজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চিলমারী উপজেলার উত্তর চর খাওরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মন্তোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দীঘলকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ ছাড়াও কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার নন্দদুলালের ভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর কৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রৌমারী উপজেলার ফুলুয়ার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বলদমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফুলবাড়ী উপজেলার মেখলিরচর খন্দকারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রাজারহাটের বিদ্যানন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। হুমকিতে রয়েছে কুড়িগ্রাম সদরের সারডোব, ছাটকালুয়া ও রৌমারীর ঘুঘুমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি স্কুল। এবার বর্ষা ও বন্যায় সর্বোচ্চ সংখ্যক স্কুল ভবন ভাঙনের কবলে পড়েছে। অনেক স্কুলের মালামাল ও ভবন নদীতে চলে গেছে। প্রতিটি স্কুলে গড়ে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। সেই হিসেবে প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষার্থীর লেখাপড়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া অব্যাহত রাখতে অস্থায়ী ভিত্তিতে স্কুলগৃহ নির্মাণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ছয়টি স্কুল পুনর্নির্মাণের জন্য এডুকেশন ইন ইমার্জেন্সি খাত থেকে তিন লাখ টাকা করে বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বাকীগুলোর জন্য বরাদ্দ পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি আরো জানান, ক্যাচমেন্ট এলাকায় স্থানীয়দের সহায়তায় জমি নিয়ে অস্থায়ী ভিত্তিতে এসব স্কুল পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখার স্বার্থে।