স্বপন মিয়া (২১), রিপন মিয়া (২৩) ও মুখলেছ মিয়া (২৭)। তিন জনই পেশায় দিনমজুর। তাদের বাড়ি নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলার সাওতা ইউনিয়নের স্বল্প দশাল গ্রামে। এদের মধ্যে স্বপন ও রিপন আপন দুই ভাই। শনিবার রাতে তারা গিয়েছিলেন একই এলাকার রেললাইনের পাশের ডোবায় মাছ ধরতে। মাছ ধরার জন্য সারারাত ডোবার পানি অপসারণ করেন। এক সময় ক্লান্তি এসে যায়। সেই ক্লান্তি দূর করতে রেললাইনের ওপর একটু বিশ্রাম নিতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর হাওর এক্সপ্রেসে তারা সবাই কাটা পড়ায় সেই ঘুম পরিণত হয় চির ঘুমে! তাদের খণ্ড-বিখণ্ড লাশ ছড়িয়ে পড়ে প্রায় আধা কিলোমিটার জুড়ে। মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল রবিবার ভোরে।
এলাকার কয়েক জন বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দশাল গ্রামের রিপন, স্বপন ও মুখলেছ শনিবার রাতে তাদের বাড়ির সামনে রেলপথের পাশে একটি ছোট জলাশয়ে মাছ ধরতে গিয়ে এই দুর্ভাগ্যের শিকার হন। রাত ১২টার দিকে ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনটি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। গতকাল ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ট্রেনটি মোহনগঞ্জ-ময়মনসিংহ রেলপথের বারহাট্টা সদরের দশাল এলাকায় পৌঁছালে ওই তিন জন কাটা পড়েন। খবর পেয়ে বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ওসি জানান, রেলওয়ে পুলিশ এসে তিনটি লাশ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশগুলো ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এদিকে রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সমর বড়ুয়া জানান, এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রিপন ও স্বপন স্বল্প দশাল গ্রামের আব্দুল হেকিমের দুই ছেলে এবং একই গ্রামের কুরফান আলীর ছেলে মুখলেছ।