জানা-অজানা

মুক্তা কাহন

 

মুক্তা পৃথিবীর প্রাচীনতম মণি। খাঁটি মুক্তা মূল্যবান। মুক্তার গঠন কঠিন নয়, খুব সহজেই ক্ষয় হয়ে যায়। ঝিনুক ও শামুক জাতীয় অমেরুদণ্ডী জলজ প্রাণী থেকে তৈরি হয় মুক্তা।

প্রায় ৩৫০০ খ্রিষ্টপূর্বে মুক্তার সন্ধান পাওয়া যায়। বাহরাইনের ছোট্ট দ্বীপ বসেরা, এখানেই পাওয়া যায় ভুবন বিখ্যাত মুক্তা। গড়ন, রং এবং মানের দিক থেকে এখানকার মুক্তার সমতুল্য কোনো মুক্তাই নয়। ঝিনুকের পেটে ভোল পালটে বালুর কণা রূপ পায় সুডৌল মুক্তার। বহুকাল পর্যন্ত ছোট এই দ্বীপটি পৃথিবীর মধ্যমণি ছিল কেবল মুক্তার কারণেই।

এখন খাঁটি মুক্তার চেয়ে চাষ করা মুক্তায় ছেয়ে গেছে বাজার। ১৯২০ সাল থেকে ১৯৩০ সাল পর্যন্ত জাপানে প্রথম মুক্তার চাষ শুরু হয়। জাপানের সমুদ্র উপকূলে গড়ে ওঠে মুক্তার সাম্রাজ্য। আর এই সাম্রাজ্য থেকে উত্পন্ন হয় পৃথিবীর ৭৫ শতাংশ মুক্তা।

পৃথিবীতে সাদা মুক্তার চাহিদা বেশি হলেও রঙিন মুক্তার আকর্ষণও কম নয়। কৃত্রিমভাবে ইদানীং রঙিন মুক্তারও চাষ হচ্ছে। কৃত্রিম মুক্তার ভিড়ে খাঁটি মুক্তা প্রায় হারিয়ে যাওয়ার পথে। তারপরও নকলের ভিড়ে আসলটি চিনে নিতে ভুল করেন না মুক্তাপ্রেমীরা।