মোজাহেদুল ইসলাম
যুক্তরাষ্ট্রে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মার্কিন কোনো প্রতিনিধি নিয়োগ না করলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটককে নিষিদ্ধ করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেডিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মাত্র দুই বছরে কীভাবে টিকটক লক্ষ লক্ষ ব্যবহারকারীকে আকৃষ্ট করে ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে ? এটাই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মঞ্চের উপরে লাল রঙ্গের একটি ভাল্লুক একা একা দাঁড়িয়ে রয়েছে এবং তার কণ্ঠে গানের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। পরবর্তীতে অদৃশ্য জনতার ভীড় ওই সারিতে যোগদান করে। অনেকেই ঐ ভাল্লুকটির সঙ্গে গান গাইতে শুরু করে।
এই পোস্টটি হয়োছিল ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে। অ্যাপের মাধ্যমে দ্রুত লক্ষ লক্ষ ভিউ হতে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এর হাজার হাজার অনুলিপি প্রচার হতে থাকে। অ্যাপটি ধীরে ধীরে কয়েক মিলিয়ন সৃজনশীল ও তরুণদের আকৃষ্ট করতে সফল হয়।
চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বাইডেন্স চীনেই ডুয়াইন নামে ঠিক এমন একটি পরিষেবা চালু করেছিল। অ্যাপটি এক বছরের ব্যবধানে চীন ও থাইল্যান্ডের অন্তত একশ’ মিলিয়ন ব্যবহারকারীকে আকৃষ্ট করতে সফল হয়। বাইডেন্স ডুয়াইনকে টিকটকের অধীনে আলাদা ব্র্যান্ড হিসেবে প্রসারিত করতে চেয়েছিল। তাই ২০১৮ সালে এটিকে কিনেছিল। টিকটকের মধ্যে এটিকে অন্তভূক্ত করে বিশ্বব্যাপী সম্প্রসারণের কাজ শুরু করে। গোপনীয়তা ও এতে গান ব্যবহারের দিক দিয়ে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে টিকটক। ব্যবহারকারীরা গানের ও সিনেমার অংশ ডাটাবেজ থেকে বেছে নিয়ে তার সঙ্গে ঠোট মেলাতে পারেন। এখন অনেক মানুষ অধিক সময় আপনার পেজে ব্যয় করছে।
পরবর্তীতে অনেক টিকটক সম্প্রদায় তৈরি হয়েছে। পছন্দ করেন এমন কনটেন্ট বা তাদের পরিচয়ের মাধ্যমে একত্রিত হয় তারা।
গত বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী অ্যাপটি এক বিলিয়ন বারেরও বেশি ডাউনলোড হয়েছিল। এর মধ্যে পাঁচশ’ মিলিয়ন সক্রিয় ব্যবহারকারী ছিল। এক বছর পরে এ ডাউনলোডের পরিমাণ হয় দুই বিলিয়ন ও সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা হয় আটশ’ মিলিয়ন। টিকটকের এমন দ্রুত বিকাশ রাজনীতিবিদদের মনেও প্রভাব ফেলেছে।
টিকটকের বিরুদ্ধে স্পস্ট অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট ও ভারত। তাদের অভিযোগ, ব্যবহারকারীদের তথ্য নিয়ে গুপ্তচরবৃত্তিতে চীন সরকারের কাছে পৌঁছানোর কাজ করছে অ্যাপটি।
ভারত ২০১৯ সালের এপ্রিলে টিকটককে নিষিদ্ধ করেছিল। অশ্লিলতা ছড়ানোর অভিযোগে আদালতের নির্দেশে অ্যাপ স্টোর থেকে টিকটককে সরিয়ে ফেলা হয়। চলতি বছরের জুনে চীনে বেশ কয়েটি অ্যাপ্লিকেশনসহ টিকটকে আবারও নিষিদ্ধ করে ভারত। এ বিষয়ে ভারত সরকারের দাবি, অ্যাপটি ব্যবহারকারীদের তথ্য চুরি করে চীনে পাচার করছে। ২০১৯ সালের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের জাতীয় নিরাপত্ত বিষয়ক পর্যালোচনা প্রকাশ করে। এতে একজন ডেমোক্র্যাট ও একজন রিপাবলিক সংসদ সদস্য উভয়েই এটিকে ঝুঁকি বলে মন্তব্য করেন।
সূত্র :বিবিসি