ভাঙ্গায় কোন স্পষ্ট কারণ ছাড়াই ১৪৪ ধারা জারির পর রবিবার (১৮ অক্টোবর) দিবাগত রাতে ফাঁকা চার রাউন্ড গুলি ছুড়েন ফরিদপুরের এই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রকিবুর রহমান খান। এরপরই দৈনিক ইত্তেফাকের পক্ষ থেকে গুলি করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, গোলাগুলির কোন ঘটনাই ঘটেনি। চার রাউন্ড গুলির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা কোন বিষয় না। এরকম কোন কিছু নাই। এমন কোন সমস্যা হয়নি।’
তবে ওই রাতে গুলি ছুড়ার বিষয়ে অস্বীকার করলেও দিনে বিভিন্ন গণমাধ্যমের কাছে তিনি গুলি ছুড়েছেন বলে স্বীকার করেছেন। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন মিথ্যাচারকে স্থানীরা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
এদিকে ওই রাতের গুলির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) ইউএনও রকিবুর রহমান খান জানান, ঢাকার একটি অস্ত্রের দোকান থেকে দুই দিন আগে তিনি ওই শটগানটি কিনেছিলেন। কিন্তু ওই দোকানে গুলি চালানো পরীক্ষা করে দেখার জায়গা ছিল না। ফলে তিনি অস্ত্রটি পরীক্ষা করে দেখতে পারেননি। রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার সরকারি ভবনের পুকুরের দিকে চারটি গুলি চালিয়ে অস্ত্রের পরীক্ষা করেন তিনি।
অস্ত্র কিনে নিজের সরকারি ভবনের কাছে গুলি ছুড়ে পরীক্ষা করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
এদিকে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান ও ব্যবহার বিধিমালা ২০১৬ এর ২৯ (খ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন অস্ত্র ক্রয় ও মেরামতের সময়ে টেস্ট ফায়ারিং, আত্মরক্ষা ও টার্গেট অনুশীলনের উদ্দেশ্যে গুলি ব্যবহার করা যাবে। টেস্ট ফায়ারিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচটি গুলি ব্যবহার করা যাবে। ২০১৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অধিশাখা-৪-এর এই নির্দেশনা অনুযায়ী, নতুন অস্ত্র কেনার সময় টেস্ট ফায়ারিং করা যাবে এবং বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান এ সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র দেবে। এই বিধিমালা অনুযায়ী, অস্ত্র কিনে আনার আগে দোকানেই পরীক্ষা করতে হবে। বাড়িতে এনে পরীক্ষা করার সুযোগ নেই।
আরও পড়ুন: দিনে ১৪৪ ধারা, রাতে ইউএনওর ফাঁকা চার রাউন্ড গুলি, আতঙ্কে ভাঙ্গার অধিবাসীরা
ওই বিধিমালার ২৫ (ক) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, অন্যের ভীতি বা বিরক্তি উদ্রেক করতে পারে এমনভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না।
এর আগে ওই রাতে ভাঙ্গা থানার ওসি জানান, রাত ১০টা ৩০ মিনিটের কাছাকাছি সময় উপজেলায় নিজ বাস ভবনের কাছে শটগান থেকে এই গুলি ছোড়েন তিনি।
ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদের কাছাকাছি বসবাসরত এক ব্যক্তি জানান, এখানে হঠাৎ করেই পরিবেশ থমথমে হয়ে গেছে। সারাদিন ১৪৪ ধারা, আবার রাতে ভয়ংকর গুলির শব্দে আতঙ্কে রয়েছি আমরা। কেন এমনটা করা হচ্ছে জানা নেই আমার।
এদিকে চার রাউন্ড গুলির বিষয়ে জানতে চাইলে ভাঙ্গা থানার ওসি শফিকুর রহমান বলেন, রাতে হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে উপজেলা পরিষদ ও আশেপাশে থাকা বাসিন্দারা। তাদের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনা তদন্তের জন্য যাই আমরা। সেখানে গিয়ে স্থানীয় কয়েকজন এবং উপজেলা পরিষদের ওখানে কর্মরত আনসার সদস্যদের কাছ থেকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারি, উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রকিবুর রহমান খান গুলি চালিয়েছেন।'
উল্লেখ্য, রবিবার (১৮ অক্টোবর) সারাদিন উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৪৪ ধারা জারি করাতে এমনিতেই নেতাকর্মী ও জনসাধারণের ভেতরে আতঙ্ক বিরাজ করছিলো। রাতে ওই গুলির ঘটনায় এলাকায় থমথমে ভাব বিরাজ করছে।
ইত্তেফাক/আরএ