পরিবারের পূজা ফ্যাশন

 সাবেরা সুলতানা

একদিন পরই শুরু হচ্ছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উত্সব দুর্গাপূজা। অসাম্প্রদায়িকতার এই দেশে যে কোনো ধর্মীয় উত্সবই রূপ নেয় সর্বজনীন উত্সবে। শারদীয় দুর্গা উত্সবও এর ব্যতিক্রম নয়।              বাঙালি উত্সব মানেই রঙিন সাজগোজ, নতুন পোশাক। সারাদিন ঘোরাঘুরি, সকালে এক পোশাক তো বিকেলে আরেক পোশাক। পরিবারের সবাই মিলে একই রকম, একই ডিজাইনের পোশাক পরে মণ্ডপে মণ্ডপে পূজা দেখে বেড়ানো যেন এক অন্যরকম আনন্দ। যে কোনো উত্সব মানেই নতুন পোশাকের সমাহার, নানা রঙের বাহারি পোশাক ছাড়া উত্সব যেন চিন্তাই করা যায় না। সব উত্সবের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে পরিবারের শিশুরা, শুধু শিশুরা না, পরিবারের সব সদস্যরাই থাকে এই উত্সবে। পরিবারের সদস্যদের  সাজ ও পোশাকেই বর্ণিল হয়ে ওঠে উত্সব। ছোট ছেলেমেয়ে বা নাতি-নাতনিদের আনন্দই যেন বড়দের আনন্দ। ছোটদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বড়রাও নতুন পোশাক আর পরিবারের সবাই মিলে এক রকম পোশাক বা এক ডিজাইনের পোশাক পরে ঘুরে বেড়াবে পূজা মণ্ডপে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পূজা-মণ্ডপগুলোতে ভিড় জমে ভক্তদের। তাই পূজার সময় সাজসজ্জা আর পোশাক-আশাকের ওপর আলাদা নজর থাকে। তাই পূজা এলেই পরিবারের কর্তা ব্যস্ত হয়ে পড়েন পরিবারের সবার পোশাক নির্বাচনে। পরিবারের সবার কথা মাথায় রেখে ফ্যাশন ডিজাইনাররাও নানা রঙের সমাহার নিয়ে প্রস্তুত পরিবারের পূজা উত্সবের পূর্ণতা দিতে। দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে তাই শিশু থেকে মুরব্বি সবার পোশাকের বাজার সরগরম। পূজাকে সামনে রেখে বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসগুলো পোশাকে এনেছেন ভিন্নতা।

ফ্যাশন হাউজ অঞ্জন’স-এর শীর্ষ নির্বাহী শাহীন আহম্মেদ বলেন, পোশাক ডিজাইন করার সময় আমরা পরিবারে সব সদস্যের কথা মাথায় রেখে ডিজাইন করি। এবারের পূজায় একই ডিজাইন, মডেল, কালার দিয়ে কাজ করেছি এবং বেশ কয়েকটি গ্রুপ ডিজাইন ও করা হয়েছে।

সবসময়ই নতুন ডিজাইন আনার চেষ্টা করেন, তবে পূজাই কাপড়ের দিকে নজর দিয়েছেন এবং দুর্গাপূজা যেহেতু হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উত্সব, তাই দুটো দিক মাথায় রেখে কাজ করেছেন। পূজার ঐতিহ্যবাহী ডিজাইন এবং এক্সক্লুসিভ ডিজাইন এনেছেন এবার। ছোটদের এবং বড়দের গ্রুপ ডিজাইনের পোশাকগুলো একই রকম, কিন্তু ছোটদের এবং বড়দের পোশাকের ডিজাইনের ধরনটা পরিবর্তন করেছেন। সেই সঙ্গে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন ক্রেতাদের আরাম ও স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়টাকে। এখন যেহেতু গরম প্রায় শেষের দিকে তাই আরামদায়ক পোশাকের দিকে বেশি নজর দিয়েছেন।

শারদীয় দুর্গাপূজার ষষ্ঠী থেকে দশমী। পাঁচটা দিন। সময়টা যেহেতু বেশি, তাই নিজেকেও বেশি আধুনিক, ঐতিহ্যবাহী, ক্লাসিক্যাল যে কোনোভাবে সাজিয়ে তোলা যাবে। তবে সাজতে হবে নিজের স্বাচ্ছন্দ্যবোধ, রুচি ও ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মিলিয়ে। একেক দিন একেকটি রঙে সাজতে পারেন। পাঁচ দিন সাজবেন ভিন্ন ধরনের সাজ। তবে এর মধ্যে আবার রাত-দিনের তফাতটাও মনে রাখতে হবে। একটা সময় ছিল, যখন পূজা মানেই ছিল শাড়ি। এখন আর আগের মতো নেই, যে কোনো উত্সবে তরুণীরা আজকাল সালোয়ার-কামিজ কিংবা জিনস-কামিজ, লেহেঙ্গাও পরছে। তবে, শাড়িও থাকবে। শাড়ি ছাড়া যেন পূজা অসম্পূর্ণ মনে হয়।

ষষ্ঠী ও সপ্তমীতে একটু হালকা সাজ মানানসই। অষ্টমী ও নবমীর রাতের সাজটা জমকালো হয় সাধারণত। এ দুটো দিন একটু ভারী কাজ করা শাড়ি পরা যেতে পারে। চাইলে লম্বা কাটের কামিজও পরতে পারেন। বয়সভেদে টাইটস কিংবা পালাজ্জো দিয়েও মানাবে ভালো। ছেলেরা ধুতি-পাঞ্জাবি, টি-শার্ট বা শার্ট সবই পরে দেখতে পারেন পূজার একেক বেলায়। রঙ বাংলাদেশ-এর ডিজাইনার ও সিইও সৌমিক দাস বলেন, ‘প্রতিবারের মতো নজরকাড়া সংগ্রহ নিয় রঙ বাংলাদেশের শারদ সংগ্রহ অন্য সবার চেয়ে আলাদা। এই সংগ্রহে কেবল বড়দের নয়, ছোটদেরও পোশাক রয়েছে। প্রতিটি উপলক্ষে আমরা শ্রদ্ধাভাজন অগ্রজ ও ছোটদের পোশাককে সমান গুরুত্ব দিয়ে থাকি।’

রঙ বাংলাদশ সবসময়ই বিভিন্ন থিমে সংগ্রহ সাজিয়ে থাকে। এবারও সেই ধারা অব্যাহত রেখে শারদীয় আয়োজনকে অনিন্দ্য সুন্দর করতে থিম হিসেবে বেছে নিয়েছে কলমকারি, দেবী দুর্গার অলংকার। শারদ সংগ্রহে সকল বয়সের সবার জন্য রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পোশাক :শাড়ি, থ্রিপিস, টু-পিস, কামিজ, সিঙ্গেল কুর্তি, টপস, ফ্রক, ব্লাউজ, পালাজ্জো, ওড়না, আনস্টিচ ড্রেস, পাঞ্জাবি, কাতুয়া,পায়জামা, টি-শার্ট, শার্ট, ফতুয়া, ধুতি, লুঙ্গি, উত্তরীয় ইত্যাদি। বিশেষ ম্যাচিং পোশাক রয়েছে পরিবার ও যুগলদের জন্য।

মডেল সত্যজিত্, দিপান্বীতা ও সান্নিধ্য

পোশাক রঙ বাংলাদেশ