কয়েক সেকেন্ডেই সাড়ে ১২ লাখ টাকা ভর্তি ব্যাগ উধাও

ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বের হয়ে মোটরসাইকেলের তালা খুলছিলেন সুজাউল ইসলাম। টাকার ব্যাগটি রেখেছিলেন মোটরসাইকেলের হাতলে। তালা খুলে মাথা তুলেই দেখেন টাকার ব্যাগটি আর নেই। 

সোমবার বেলা ১১টার দিকে রংপুর মহানগরীর কাচারি বাজার এলাকায় আইনজীবী সমিতি ভবনের সোনালী ব্যাংক শাখার নীচ এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ১১টার দিকে আইনজীবী সমিতি ভবনের সোনালী ব্যাংক শাখা থেকে সাড়ে ১২ লাখ টাকা উত্তোলন করেন সুজাউল ইসলাম নামের এক ব্যবসায়ী। পরে টাকাগুলো একটি ব্যাগে ভরে হাতে করে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামেন। ভবনের নিচে টাকার ব্যাগটি তিনি তার মোটরসাইকেলের হাতলে রেখে মাথা নিচু করে গাড়ির তালা খুলতে থাকেন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তালা খুলে দেখেন টাকার ব্যাগ উধাও হয়ে গেছে। নগরীর একাধিক ব্যক্তি বলেন, এখানে অনেক মানুষের সমাগম প্রতিদিন ঘটে। এর মধ্যে থেকে কারও একার পক্ষে এভাবে টাকা নিয়ে উধাও হওয়া সম্ভব নয়। ছিনতাইকারীর এই দলে একাধিক সদস্য থাকতে পারে।

টাকার মালিক সুজাউল ইসলাম জানান, ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বের হয়ে মোটরসাইকেলের তালা খুলছিলেন। টাকার ব্যাগটি রেখেছিলেন মোটরসাইকেলের হাতলে। তালা খুলে মাথা তুলেই দেখেন টাকার ব্যাগটি আর নেই। এরপর তিনি দিশেহারা হয়ে ঘটনাস্থলে বসে কান্নাকাটি করতে থাকেন। খবর পেয়ে তাঁর স্ত্রীও সেখানে ছুটে আসেন। ঘটনাস্থলে শত শত মানুষ জড়ো হয়। টাকা ছিনতাই হওয়া ব্যক্তি সুজাউল ইসলামের বাড়ি নগরীর কেরানীপাড়া এলাকায়। তিনি একজন ব্যবসায়ী। খোয়া যাওয়া ব্যাগে সাড়ে ১২ লাখ টাকা ছিল বলে জানিয়েছেন।

রংপুর মহানগরীর ব্যস্ততম কাচারি বাজার এলাকায়  টাকা খোয়া যাওয়া স্থানের সড়কের ওপারে ডি আই জি, বিভাগীয় কমিশনার, মেট্রোপলিটন কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কার্যালয় অবস্থিত। এ পাশে বার লাইব্রেরী ভবন, কোর্ট মসজিদ, ও মৌবন ও পিয়াসি হোটেল। ফলে এলাকাটিতে সব সময় মানুষের সমাগম থাকে।

রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)আব্দুর রশীদ জানান, ঘটনাস্থলের আশপাশের দোকানপাটের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ছাড়া সোনালী ব্যাংকসহ রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করতে চেষ্টা চলছে।

ইত্তেফাক/এমআর