বেশির ভাগই অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে আছে

গাইবান্ধার পাবলিক হাত ধোয়া বেসিন

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

পানি ও সাবানের ব্যবস্থা না করাসহ নানা অব্যবস্থাপনার কারণে গাইবান্ধায় স্থাপন করা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধিকাংশ পাবলিক হাত ধোয়া বেসিনগুলো মানুষের কোনো কাজে আসছে না। এগুলোর বেশির ভাগই অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে বেসিন স্থাপনের উদ্দেশ্য কার্যত ব্যর্থ হয়েছে।

গাইবান্ধা জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলার সাতটি উপজেলায় মোট ৩১টি পাবলিক হাত ধোয়া বেসিন  রয়েছে। এর মধ্যে জেলার সাতটি থানা কার্যালয় চত্বরে সাতটি, সাতটি উপজেলা পরিষদ কার্যালয় চত্বরে সাতটি, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কার্যালয়ে একটি, সদর উপজেলার দারিয়াপুর বাজারে একটি, বিসিক শিল্পনগরীতে একটি, সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে একটি, সদর উপজেলার রূপারবাজার এলাকায় একটি, জেনারেল হাসপাতাল চত্বরে একটি, সদর উপজেলার জোত গৌরসিংহ এলাকায় একটি এবং জেলা শহরের বিভিন্ন জনগুরুক্তপূর্ণ স্থানে ১০টি।

সূত্রটি আরো জানায়, করোনা ভাইরাস সংক্রমণের শুরুতে গত এপ্রিল মাসে গাইবান্ধা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এগুলো নির্মাণ করে। প্রতিটি পাবলিক হ্যান্ড ওয়াশ বেসিন নির্মাণে ব্যয় হয় ৩০ হাজার টাকা। মোট ব্যয় ৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা। রবিবার সকালে কয়েকটি পাবলিক হ্যান্ড ওয়াশ বেসিন ঘুরে দেখা গেছে, কোনোটিতে এখনো পানির ব্যবস্থা করা হয়নি। আবার কোনোটিতে পানির ব্যবস্থা থাকলেও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই। নেই সাবানের ব্যবস্থা। কোনোটিতে এরই মধ্যে ট্যাপকল হারিয়ে গেছে। আবার কিছু চালু বেসিন থাকলেও মানুষ সেগুলো ব্যবহার করছে না। এর মধ্যে সাদুল্লাপুর থানার (পুলিশ স্টেশন) প্রধান ফটকের পশ্চিম পাশে প্রাচীরের সঙ্গে নির্মিত বেসিনটি অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে আছে। এখানে পানির ব্যবস্থা নেই। নেই পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা। নেই সাবান।

সাদুল্লাপুর উপজেলার জয়েনপুর এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বেসিনটি স্থাপনের প্রথম দিকে এটি চালু ছিল। কিন্তু এখন এতে পানির ব্যবস্থা ও সাবান নেই। ফলে অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে আছে। গাইবান্ধা সদর উপজেলার দারিয়াপুর বাজার এলাকায় নির্মিত হাত ধোয়া বেসিনটি অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে আছে। এই বেসিনেও পানি সরবরাহ ও সাবানের ব্যবস্থা নেই। দারিয়াপুর বাজার এলাকার ব্যবসায়ী মইনুল হক মণ্ডল বলেন, এই বেসিনেও পানি সরবরাহ ও সাবানের ব্যবস্থা না থাকায় হাটে আসা লোকজনের কেউ-ই এই বেসিন ব্যবহার করেন না। ফলে বেসিনটি অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে আছে। ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদ চত্বরে নির্মিত হাত ধোয়া বেসিনে পানির ব্যবস্থা আছে। বেসিনে সাবান রাখা হয়নি। মানুষ এটা তেমন একটা ব্যবহার করছেন না। উপজেলা শহরের গাইবান্ধা রোডের ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম বলেন, অনেক লোক প্রতিদিন উপজেলায় আসেন। কিন্তু জনগণ এখন করোনা ভাইরাস নিয়ে উদাসীন। তাই কেউ হাত ধোয় না। গাইবান্ধা শহরের পিকে বিশ্বাস রোডে জেলা শিল্পকলা একাডেমিসংলগ্ন স্থানে নির্মিত হাত ধোয়া বেসিনটিতে পানির ব্যবস্থা নেই। নেই সাবানের ব্যবস্থা। পানির ব্যবস্থা না থাকায় এটি অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে আছে। পিকে বিশ্বাস রোডের বাসিন্দা জিয়াউল হক আক্ষেপ করে বলেন, পানির ব্যবস্থা না করে এ বেসিনটি নির্মাণ করে কী লাভ হয়েছে?

গাইবান্ধা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ রেজওয়ান হোসেন বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে এসব বেসিন স্থাপন করা হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠান চত্বরে এসব বসানো হয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠান এই বেসিনগুলোতে পানি ও সাবানের ব্যবস্থাসহ রক্ষণাবেক্ষণ করবেন। তিনি আরো বলেন, যে বেসিনগুলোতে সমস্যা আছে, সেগুলো ঠিক করে দেওয়া হবে।