ঠাকুরগাঁও মত্স্য অভয়াশ্রমে অবাধে চলছে মাছ শিকার

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ঠাকুরগাঁওয়ের নদনদীতে গড়ে তোলা মত্স্য অভয়াশ্রমে অবাধে চলছে মাছ শিকার। এতে দেশি প্রজাতির মাছের বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সোমবার দুপুরে সরেজমিনে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের বাসভবনের পশ্চিম পাশে টাঙ্গন নদ ও সদরের বুড়িরবাঁধ এলাকার সুক নদীর অভয়াশ্রমে দেখা গেছে, কয়েক জন বড়শি দিয়ে শৌখিন মাছ শিকারি এবং জেলে অবৈধ কারেন্ট জাল ও ফিকা জাল দিয়ে ছোট এবং বড় মাছ শিকার করছেন। টাঙ্গন নদ অভয়াশ্রমে ফিকা জাল দিয়ে মাছ ধরছিলেন প্রদীপ কুমার নামের একজন। তিনি বলেন, মত্স্য অভয়াশ্রম ঘোষণার পর মাছ শিকার করতাম না। পরে অনেককে অভয়াশ্রম এলাকায় মাছ শিকার করা দেখে আমিও করছি। জেলে ধনঞ্জয় রায় বলেন, নদীতে মাছ শিকার করে বাজারে বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে সংসার চলে। বুড়িরবাঁধ এলাকার মত্স্য অভয়াশ্রমে শৌখিন মাছশিকারি শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি জানি না এটা মত্স্য অভয়াশ্রম। এ বাঁধ এলাকায় অনেককেই দেখছি ছোট বড় মাছ শিকার করছে। তাই আমিও এসেছি মাছ শিকার করতে।

সুসাশনের জন্য নাগরিক (সুজন) ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ বলেন, মা মাছ ও দেশি প্রজাতির মাছ রক্ষায় আইনের প্রয়োগ প্রয়োজন। টাঙ্গন নদের মত্স্য রাণী অভয়াশ্রমের স্থানীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আব্দুুল মজিদ বলেন, এ বছর বর্ষায় অভয়াশ্রমের খুঁটি ও বেড়া বিলীন হয়ে গেছে। বরাদ্দ না থাকায় সেখানে আর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে অরক্ষিত রয়েছে অভয়াশ্রমটি। জেলা মত্স্য কর্মকর্তা আফতাব হোসেন বলেন, জেলায় ১১টি মত্স্য অভয়াশ্রম রয়েছে। অভয়াশ্রমগুলোতে বাঁশের খুঁটির ওপর লাল পতাকার নিশানা দিয়ে সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে, তাতে লেখা রয়েছে—‘মত্স্য অভয়াশ্রমে মাছ ধরা নিষিদ্ধ’। মত্স্য সংরক্ষণ আইন অমান্যকারী জেল অথবা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। তিনি আরো বলেন, অভয়াশ্রমগুলো স্থানীয় মত্স্য সমিতির সদস্যরা দেখভাল করেন। এখানে মাছ ধরার কোনো সুযোগ নেই। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আর স্থানীয় মত্স্য সমিতির সদস্যরা যদি অভয়াশ্রমগুলো দেখভাল না করেন তাহলে সে ব্যাপারেও ব্যবস্থা নেব।

ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম বলেন,  বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পেয়ে অভয়াশ্রমগুলোতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা অভিযান পরিচালনা করছে। ইতিমধ্যে অনেককেই জেল-জরিমানা করা হয়েছে। দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় অভিযান অব্যাহত থাকবে।