হালকা প্রকৌশল শিল্পের বাজার ৩০ হাজার কোটি টাকার

দুই-তৃতীয়াংশই আমদানিনির্ভর

ইত্তেফাক রিপোর্ট

দেশে দিনে দিনে বড় হচ্ছে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং বা হালকা প্রকৌশল শিল্পপণ্যের বাজার। শিল্প মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে হালকা প্রকৌশল শিল্পপণ্যের বাজার প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার। তবে এর মধ্যে বেশির ভাগই আমদানিনির্ভর। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ এক-তৃতীয়াংশেরও কম। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ৩০ হাজার কোটি টাকার বিপুল বাজারের মধ্যে মাত্র ৯ হাজার কোটি টাকার পণ্য দেশে উত্পাদিত হয়। বাদবাকি প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকার পণ্যই আমদানিনির্ভর।

গতকাল সোমবার হালকা প্রকৌশল শিল্প খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে গঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে মন্ত্রণালরে পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। বিশ্ববাজারে হালকা প্রকৌশল পণ্যের চাহিদা ৭ লাখ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ। এর মধ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি খুবই কম, মাত্র ৩৫ কোটি ডলারের মতো। অথচ এ শিল্পের আধুনিকায়ন এবং অপেক্ষাকৃত সহজলভ্য শ্রমের ওপর নির্ভর করে গুণগত মানের পণ্য উত্পাদনের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে আরো অনেক বেশি পণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সেকেলে ধ্যান-ধারণা আর পুরোনো প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি পণ্য বিশ্ববাজারে তো নয়ই, অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশেও টিকে থাকা কঠিন হবে। এ শিল্পকে সঠিকভাবে গুরুত্ব দিয়ে  রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ অনুধাবন করছে সরকার। এ লক্ষ্যে হালকা প্রকৌশল শিল্পকে ‘প্রোডাক্ট অব দ্য ইয়ার’ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে এ শিল্পে গুরুত্ব দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো। গতকালের সভায়ও এ খাতের উন্নয়নে করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এম আলী আজম। সভায় জানানো হয়,  এ খাতের শিল্পের জন্য একটি বিশেষায়িত গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।

সভায় লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প খাতে চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম বেগবান করতে ডেডিকেটেড শিল্পপার্ক স্থাপন, এ খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য স্বল্প খরচে ফান্ড সরবরাহ ও আর্থিক প্রণোদনা প্রদান, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ কর্মী ও ব্যবস্থাপক তৈরি, উত্পাদিত পণ্য বাজারজাতকরণ, সাবকন্ট্রাকটিং শিল্পের বিকাশ ও আইন প্রণয়ন এবং হালকা প্রকৌশল শিল্পনীতি প্রণয়ন সংক্রান্ত সুপারিশের বাস্তবায়ন অগ্রগতি আলোচনা হয়।

সভায় দ্রুত লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করার তাগিদ দেওয়া হয়। পাশাপাশি এ খাতের উদ্যোক্তাদের উত্পাদিত পণ্য বিপণন নিশ্চিত করতে সাবকন্ট্রাকটিং আইনের খসড়া দ্রুত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ও নির্দেশনা দেওয়া হয়। দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় গড়ে ওঠা হালকা প্রকৌশল উদ্যোক্তাদের পণ্য বিপণনের সুবিধার্থে বিসিক, এসএমই ফাউন্ডেশন, বিটাক এবং বাংলাদেশ লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পমালিক সমিতির যৌথ উদ্যোগে হালকা প্রকৌশল শিল্পমেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া, হালকা প্রকৌশল খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে উপখাতভিত্তিক কনসেপ্ট নোট তৈরি করে তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিদেশি উদ্যোক্তাদের কাছে পাঠানোরও সিদ্ধান্ত হয়। সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।