হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও রেল স্টেশন ঘিরে বহু মানুষের যাতায়াত ঐ এলাকায়। অথচ এলাকার বেশির ভাগ খালি জায়গা ও ফুটপাত দখল করে রেখেছে হকাররা। বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনের পার্কিং এলাকাসহ আশপাশে শত শত দোকান বসিয়েছে হকাররা। তারা প্রতিদিন ১ হাজার ৩০০ টাকা চাঁদার বিনিময়ে এসব দোকান বসান বলে জানান দোকানদাররা। ফলে রেলওয়ে স্টেশনে আসা যাত্রী ও পথচারীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে প্রতিদিন।
সরেজমিনে দেখা যায়, রেলওয়ে স্টেশনের পার্কিংয়ের জায়গায় জুতা, শরবত, টি-শার্ট ও ফলের দোকান বসিয়েছে হকাররা। যেখানে কিছু দিন আগেও রেল স্টেশনের কাজ চলাকালে খালি ছিল, সে জায়গায় এখন দোকানের কারণে হাঁটারও উপায় নেই। সড়ক পারাপারের ফুটওভারব্রিজে ওঠার একপাশের লিফট নষ্ট থাকায় এই পথ দিয়েই ফুটওভারব্রিজে উঠতে হয় পথচারীদের। অথচ এখানে এসব দোকান থাকায় বেশির ভাগ পথচারীকেই মূল সড়ক ব্যবহার করতে হয়। এতে যে কোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। এছাড়া হাজি ক্যাম্পের দিকে যেতে রাস্তার ওপরে, রেললাইনের দুই পাশে ফলের দোকানসহ বিভিন্ন ধরনের দোকান বসানো হয়েছে।
বিমানবন্দর এলাকার পথচারীদের একজন জাকির হোসেন। তার প্রতিদিনই এই পথ দিয়ে আশকোনায় যেতে হয়। তিনি বলেন, ‘কয়েক দিন খালি থাকলেও এখানে আবার হকাররা দখল নিয়েছে। এই অল্প একটু জায়গায় এত মানুষ দোকান নিয়ে বসলে আমরা পথচারীরা কোথায় যাব। আমাদের হাঁটার জায়গাও নেই ফুটপাত দখলের কারণে’। আরেক পথচারী নাসির হোসেন বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও রেল কর্তৃপক্ষ চাইলে এখানে হকার বসার সাহস পাওয়ার কথা না। অথচ টাকার বিনিময়ে তারা এখানে বসছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হকার জানান, প্রতিদিন আক্তার নামে এক লাইনম্যানকে ১ হাজার ৩০০ টাকা দিয়েই তারা এখানে বসেন। এখানে বেশির ভাগ হকার পুরাতন বলেও তিনি জানান। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিন প্রায় ১ থেকে দেড় লাখ টাকা চাঁদা এসব দোকান থেকে ওঠানো হয়। এর ভাগ রেলের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বিভাগের কতিপয় অসাধু সদস্য ও শ্রমিক লীগের নামধারী কিছু নেতার পকেটে যায়। যার কারণে বারবার উচ্ছেদ করা হলেও এখানে হকাররা আবার দোকান বসান। এ বিষয়ে জিআরপি (ঢাকা) অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) রকিব উল হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, এ বিষয়ে তিনি অবগত নন। দ্রুতই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।