কোনো কারণ ছাড়াই ভাঙ্গায় ১৪৪ ধারা জারির পর রবিবার রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রকিবুর রহমান খানের ফাঁকা গুলি ছোড়ার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজসহ বিষয়টি নিয়ে থানায় দুটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে।
জানা যায়, রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা পরিষদের নিজ বাসভানের কাছে শটগান থেকে ৪ রাউন্ড গুলি ছুড়েন নির্বাহী কর্মকর্তা। এতে উপজেলা পরিষদের কাছাকাছি বসবাসরত বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং এলাকায় এক থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মেহেদী পারভেজ নামের একজন জানান, সারা দিন ১৪৪ ধারা, আবার রাতে ভয়ঙ্কর গুলির শব্দে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ওসি সফিকুর রহমান বলেন, রাতে হঠাত্ বিকট শব্দের খবর পেয়ে ঘটনা তদন্তের জন্য আমরা পুলিশ প্রেরণ করি। সেখানে গিয়ে স্থানীয় কয়েকজন এবং উপজেলা পরিষদের ওখানে কর্মরত আনসার সদস্যদের কাছে থেকে জানতে পারি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রকিবুর রহমান খান কারণ ছাড়াই কয়েক রাউন্ড গুলি চালিয়েছেন। বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েকটি জাতীয় দৈনিকের অনলাইন ভার্সনে সংবাদ প্রচার হলে জেলা এডিএম দিপক কুমার সোমবার সন্ধ্যায় ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদে এসে সরেজমিন তদন্ত করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা রকিবুর রহমান খান বলেন, নিজস্ব নিরাপত্তার জন্য সম্প্রতি তিনি একটি শটগান কিনেছেন। রবিবার রাতে শটগান থেকে পরীক্ষামুলক ৪ রাউন্ড গুলি চালান। তবে বিষয়টি এতদুর পর্যন্ত গড়াবে তা তিনি ভাবতে পারেননি।
উল্লেখ্য, রবিবার ফরিদপুর-৪ আসনের জনপ্রিয় সাংসদ মুজিবুর রহমান চৌধুরীর সমর্থক নেতা-কর্মীর কোন কর্মসুচি না থাকার পরও ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা রকিবুর রহমান খান ১৪৪ ধারা জারি করায় সারাদিন ভাঙ্গাবাসির মনে আতঙ্ক ছিল। এরপর রাতে গুলির শব্দে তা ভয়াবহ রূপ নেয়।