দেবব্রত মুখোপাধ্যায়
লকডাউনের সময়টায় ছিলেন বাগেরহাটে।
ছোট্ট এই মফস্বল শহরটাতে সেভাবে বোলিং অনুশীলন করার সুযোগ ছিল না। তাই বসে থাকেননি। নদীর পাড়ে বালুর মধ্যে দৌড়েছেন, ফিটনেস ট্রেনিং করেছেন। আর ভেবেছেন—স্বরূপে মাঠে ফিরতে পারব তো?
নিজেকে নিয়ে সামান্য একটা দ্বিধার সৃষ্টি হয়েছিল রুবেল হোসেনের মধ্যে। এই বছরটা জুড়েই মনের সঙ্গে এই যুদ্ধ করেছেন। অবশেষে সব দ্বিধা উড়ে গেছে; উড়িয়ে দিয়েছেন নিজেই। চলমান বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপে চার ম্যাচে শিকার করেছেন ১১ উইকেট। শেষ তিন ম্যাচে নিয়েছেন ১০ উইকেট। আর সর্বশেষ ম্যাচে ৩৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে হয়েছেন ম্যাচসেরা। এসব উইকেট বা সাফল্য নয়; গতকাল কথা বলতে গিয়ে রুবেল হোসেন বললেন, এই টুর্নামেন্টে তার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি আত্মবিশ্বাস।
রুবেলের ম্যাচ শেষের বোলিং ফিগার দেখেও ঠিক বোঝা যাবে না যে, কতোটা বিধ্বংসী ছিলেন তিনি শেষ ম্যাচে। প্রথম ৬ ওভারে ৯ রান ব্যয় করেই ৩ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন। গতি, ইয়র্কার আর বাউন্সারে জর্জরিত করেছেন ব্যাটসম্যানদের। নিজের বোলিং নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বেশ তৃপ্ত মনে হলো এই পেসারকে, ‘খুব ভালো লাগছে। আসলে লকডাউনের পর বেশি বোলিং অনুশীলন করা হয়নি। যাও করেছি, তাও মূলত টেস্ট সামনে রেখে। ফলে লিমিটেড ওভারের জন্য সেভাবে প্রস্তুতি ছিল না। তাই একটা ভয় ছিল যে, পারব কি না, কিন্তু ভালো করতে পেরে ভালো লাগছে।’
এই টুর্নামেন্টটা হয়তো সেরকম গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়। রেকর্ডেও থাকবে না এইসব পারফরম্যান্স। তারপরও এই টুর্নামেন্টে এই আগুন ঝরা বোলিংয়ের রুবেলের কাছে আলাদা একটা মাহাত্ম আছে। টেস্টে তিনি কখনোই সেভাবে নিয়মিত নন। তার শক্তির জায়গাটা হলো ওয়ানডে। কিন্তু সেই ওয়ানডেতেও গত বছর দেড়েক একেবারেই ভালো কিছু করতে পারেননি। সর্বশেষ ২০১৮ সালের জুলাই মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন। এরপর গত ১৪টি ম্যাচে আর কখনোই ৩ উইকেটও পাননি; দুই ম্যাচে মাত্র ২টি করে উইকেট পেয়েছেন। রুবেল বলছেন, তিনি বোলিং ভালোই করছিলেন। কিন্তু সময়টা পক্ষে ছিল না। এখন অন্তত সেই সুসময়ের দেখা এই টুর্নামেন্টটায় পেলেন, ‘আমি নেটে ভালো করছিলাম। ম্যাচেও ভালো বল করেছি। কিন্তু অনেক সময় ভালো বল করেও উইকেট পাওয়া যায় না। সেটা হচ্ছিল। এখন আশা করি, এই ফরমটা ধরে রাখতে পারব।’