ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
পশ্চিমের জেলাগুলোর কিছু কিছু স্থানে আগাম চাষ করা রোপা আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। ফলনও ভালো হচ্ছে। এদিকে ধানের দামের পাশাপাশি উপরি খড়ের চড়া দামে চাষি বেশ খুশি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে যশোর জেলায় ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫১০ হেক্টরে, ঝিনাইদহে ১ লাখ ৪ হাজার ১২৮ হেক্টরে, মাগুরায় ৬১ হাজার ৫৮৫ হেক্টরে, মেহেরপুরে ২৫ হাজার ৯১৫ হেক্টরে, চুয়াডাঙ্গায় ৩২ হাজার ৬৬০ হেক্টরে এবং কুষ্টিয়া জেলায় ৮৮ হাজার ৮৬২ হেক্টরে রোপা আমনের চাষ হয়েছে। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এবং চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর আবহাওয়া অনুকূল থাকায় ধানের অবস্থা ভালো। আগাম চাষ করা খেতের ধান পেকে গেছে, কাটা শুরু হয়েছে। ঝিনাইদহের শৈলকুপার বিজুলিয়া গ্রামের চাষি বাচ্চু মোল্লা বলেন, বিঘাপ্রতি ২০-২৫ মণ ফলন হচ্ছে। চাষি ধান কেটে পেঁয়াজ চাষের বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত। মনোহরপুর গ্রামের চাষি মাসুদ হাসান পান্না বলেন, খড়ের উচ্চমূল্যে চাষির বাড়তি আয় হচ্ছে। তিনি ৯ কাঠা জমির খড় ৯ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন। আর এ জমিতে ১০ মণ ধান হয়েছে। বাজারে নতুন ওঠা ধান প্রতি মণ ১ হাজার টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। সিদ্দি গ্রামের চাষি আব্দুর মালেক জানান, সাড়ে তিন বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করেছেন। মঙ্গলবার শৈলকুপা হাটে ১ হাজার ৫০ টাকা মণ দরে ধান বিক্রি করেন। এক বিঘা জমির খড় বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকায়। খড়ের দাম একটু কমেছে বলে তিনি জানান। তবে ধান ও খড়ের দামে তিনি খুশি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পরিচালক কৃপাংশু শেখর বিশ্বাস জানান, এবার ঠিকমতো বৃষ্টি হওয়ায় আমন ধানের ফলন ভালো হয়েছে। আগাম চাষ করা ধান কাটা শুরু হয়েছে। বিঘাপ্রতি ২০-২২ মণ ফলন হচ্ছে। প্রতি মণের দামও ১ হাজার টাকার ওপরে। চাষির লাভ হচ্ছে।