আলুর দাম খুচরা পর্যায়ে কেজিতে পাঁচ টাকা বাড়িয়ে ৩৫ টাকা পুনর্নির্ধারণ

দেশে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত পরিমাণ আলু মজুত থাকার পরও আলুর দাম বাড়ালো সরকার। খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি আলুতে ৫ টাকা বাড়িয়ে ৩৫ টাকা পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া কোল্ডস্টোরেজ ও পাইকারী পর্যায়ে প্রতি কেজি আলুতে যথাক্রমে ৪ ও ৫ টাকা বাড়িয়ে ২৭ ও ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার কৃষি বিপণন অধিদপ্তরে আলু ব্যবসায়ীদের সাথে এক বৈঠকে এ দাম নির্ধারণ করা হয়।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফের সভাপতিত্বে বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ট্রেড এন্ড ট্যারিফ কমিশন এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট পাইকারী আলু ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে কৃষি মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ‘সার্বিক পরিস্থিতি’ বিবেচনায় নিয়ে কৃষি বিপনন অধিদপ্তর আলুর এ দর পুনঃনির্ধারণ করেছে। তবে সার্বিক পরিস্থিতি বলতে কি বুঝানো হয়েছে তার কোন  ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

তবে গত ৭ অক্টোবর কৃষি বিপনন অধিদপ্তর জানিয়েছিল, আলুর দাম বাড়ার কোন কারণ নেই।  গত মৌসুমে দেশে ১ কোটি ৯ লাখ টন আলু উত্পাদিত হয়েছে। আর আলুর চাহিদা প্রায় ৭৭ লাখ টন। এ হিসেবে প্রায় ৩২ লাখ টন আলু উদ্বৃৃত্ত থাকে। এসব কিছু বিবেচনায় তখন কোল্ড স্টোরেজ গেটে প্রতি কেজি আলু ২৩ টাকা, পাইকারি বাজারে ২৫ টাকা আর খুচরা পর্যায়ে ভোক্তাদের কাছে বিক্রির জন্য ৩০ টাকা দর নির্ধারণ করা হয়।

এখন আবার আলুর দর বাড়ানো হলো। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, দুই সপ্তাহের মধ্যে এমন কি হলো যে, আলুর পর পুনঃনির্ধারণ করা হলো। কারণ, দেশে চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত্ত্ব আলু মজুত রয়েছে। তাহলে কি সিন্ডিকেটের চাপে আলুর দাম বাড়াতে বাধ্য হলো কৃষি বিপনন অধিদপ্তর?

এদিকে গতকাল মঙ্গলবারও বাজারঘুরে দেখা গেছে, কেথাও সরকার নির্ধারিত দরে আলু বিক্রি হচ্ছে না। গতকার বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হয় ৪৫ থেকে ৫৫ টাকায়।