ফসলের ন্যায্য দাম নিশ্চিতে মধ্যস্বত্বভোগী সমস্যা দূর করতে হবে

বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, করোনা ভাইরাস সঙ্কটে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ নতুন করে দরিদ্রে পরিণত হয়েছে। দেশে প্রতিবছর খাদ্য উত্পাদন বাড়লেও সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যা রয়ে গেছে। সেই সঙ্গে কৃষকের ফসলের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে মধ্যসত্ত্বাভোগী সমস্যা দূর করতে হবে। শষ্য বীমা, আর্থিক প্রণোদনা, জলবায়ু মোকাবেলার সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে কৃষকদের উত্পাদনশীলতা বৃদ্ধির বিষয়ে জোর দিতে হবে। আর এ বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করতে হলে দরকার সুশাসন। খাদ্য অধিকার নিশ্চিতে খাদ্য উত্পাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মানুষের পুষ্টির বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারের একার পক্ষে কিছু সম্ভব নয়। সকলকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। বেসরকারি খাত ও এনজিও’র ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। গতকাল মঙ্গলবার ‘টেকসই খাদ্য ব্যবস্থা: চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ ও পিকেএসএফের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোছাম্মাত্ নাজমানারা খানুম। বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আরিফুর রহমান অপু এবং আলোচক ছিলেন ড. নাজনীন আহমেদ, সিনিয়র রিসার্চ ফেলো, বিআইডিএস। আয়োজকদের পক্ষে বক্তব্য দেন হেড অব প্রোগ্রাম, ইকো কোঅপারেশন বাংলাদেশের আবুল কালাম আজাদ। সভায় আলোচনাপত্র পাঠ ও সঞ্চালনা করেন নেটওয়ার্ক এর সাধারণ সম্পাদক মহসিন আলী। এছাড়াও মুক্ত আলোচনায় খুলনা ও বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় প্রতিনিধি বক্তব্য রাখেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. নাজমানারা খানুম বলেন, বাংলাদেশে আবাদযোগ্য জমির তুলনায় উত্পাদন যথেষ্ট ভালো হলেও সরবারহ ব্যবস্থার সমস্যা থেকেই যাচ্ছে। রয়েছে মনিটরিং সমস্যা। সর্বোপরি সুশাসনের ঘাটতি রয়েছে। আবার শুধু চাল দিয়েই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। এর সাথে থাকতে হবে মাছ, মাংস, ডিম, দুধ। ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, শুধু খাদ্যের উত্পাদন বৃদ্ধি করলেই হবে না, পণ্যের যথাযথ সংরক্ষণ ব্যবস্থার পাশাপাশি সরবারহ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জরুরি। যা আমাদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি আয়েও ভূমিকা রাখবে।