ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাট ও তার সহযোগী এনামুল হক ওরফে আরমানের বিরুদ্ধে পৃথক দুই মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ৩০ নভেম্বর দিন ধার্য করেছে আদালত। গতকাল ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ রাজধানীর রমনা থানায় করা অস্ত্র ও মাদক মামলার অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন। এর আগে সম্রাটের মুক্তির দাবিতে শত শত কর্মী আদালত চত্বরে জড়ো হয়। তারা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড নিয়ে সম্রাটের মুক্তি দাবি করে।
মাদক মামলায় গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে র?্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র?্যাব)। অভিযোগপত্রে বলা হয়, যুবলীগ নেতা সম্রাট জিজ্ঞাসাবাদে জানান, তার সহযোগী যুবলীগ নেতা আরমানের সহযোগিতায় তিনি মাদকদ্রব্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করেন। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। ঢাকার দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজধানীর বিভিন্ন ক্লাবগুলো পরিচালনা করতেন তিনি। তার নিয়ন্ত্রণেই এসব ক্লাবে ক্যাসিনোসহ জুয়ার আসর বসত। এভাবে বিপুল অর্থসম্পদের মালিক হন সম্রাট। প্রতি মাসে ক্যাসিনো খেলার জন্য সিঙ্গাপুরেও যেতেন তিনি। সরকারি ও বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি করতেন। তার সহযোগী ছিলেন, কাউন্সিলর মমিনুল হক ওরফে সাঈদ এবং যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া।
এ ছাড়া, গত বছরের ১১ নভেম্বর সম্রাটের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে র?্যাব। গত বছরের ৬ অক্টোবর সম্রাট ও তার সহযোগী আরমানকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করা হয়। সেখান থেকে তাদের ঢাকায় আনা হয়। এরপর র?্যাব সম্রাটকে নিয়ে তার কাকরাইলের কার্যালয়ে অভিযান চালায়। সম্রাটের কার্যালয়ে ক্যাঙারু দুটি চামড়া, মাদক, অস্ত্র পাওয়া যায়। তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ১৬০টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় র?্যাব বাদী হয়ে রমনা থানায় সম্রাটের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে।