কক্সবাজারে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রোহিঙ্গা ইয়াবা কারবারি নিহত

কক্সবাজারে মেজর সিনহা হত্যার দীর্ঘ ৮২দিন পর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)'র সাথে বন্দুকযুদ্ধে এক ইয়াবা কারবারি রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। এ সময় ৪০ হাজার ইয়াবা একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোররাত ৪টার দিকে কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির বাইশ ফাঁড়ির মিয়ানমার সীমান্ত রেখায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহমেদ এ তথ্য জানিয়েছেন। 

নিহত ইয়াবা কারবারি আদহাম (২৩), নাইক্ষ্যংছড়ির তমব্রু কোনাপাড়া রোহিঙ্গা শিবিরের আবুল হাসেমের ছেলে। 

বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহমেদ বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর “জিরো টলারেন্স’’ নীতি ঘোষণার প্রেক্ষিতে করোনা ভাইরাসের মহামারির মধ্যেও বিজিবি তাদের নিজ কর্তব্যে অটুট থেকে দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত রেখেছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোররাতে খবর আসে কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের বাইশফাঁড়ী বিওপি এলাকা দিয়ে মাদকের চালান মিয়ানমার হতে বাংলাদেশে ঢুকতে পারে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে বাইশফাঁড়ী বিওপি’র দুইটি চৌকস আভিযানিক টহল দল সীমান্ত পিলার-৩৫ ও ৩৬/২এস'র মধ্যবর্তী সীমান্ত শূন্য রেখা হতে আনুমানিক ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ৩নং ঘুমঘুম ইউনিয়নের দক্ষিণ বাইশফাঁড়ী মক্করটিলা হতে আনুমানিক ১০০ গজ উত্তর দিকে রাস্তার ঢালুতে অবস্থান নেয়। ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে ১০-১২ জনের একদল লোক পাহাড়ি এলাকা দিয়ে বাংলাদেশের দিকে আসতে দেখে তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করলে তাদের হাতে থাকা অস্ত্র দিয়ে টহল দলকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি বর্ষণ শুরু করে। এ সময় টহল দল তাদের জান-মাল রক্ষার্থে পাল্টা গুলি করে। এক পর্যায়ে অজ্ঞাতনামা ইয়াবা ব্যবসায়ীরা পাহাড়ি জঙ্গলের মধ্য দিয়ে মিয়ানমারের ভিতরে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে টহল দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ আহত অবস্থায় এবং তার পার্শ্বে ইয়াবা সদৃশ বস্তু ও দেশীয় তৈরি একনলা বন্দুক পড়ে থাকতে দেখে। পরবর্তীতে আহত ব্যক্তির জীবন রক্ষার্থে চিকিৎসার জন্য উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে আনার সময় জিজ্ঞাসাবাদে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। ঘটনাস্থল হতে ৪০ হাজার পিস ইয়াবা, একটি দেশীয় তৈরি একনলা বন্দুক ও ২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। 

গোলাগুলির সময় বিজিবি দু'সদস্য আহত হন। তাদের উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। 

উল্লেখ্য, কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় গত ১ জানুয়ারি হতে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত চোরাচালান ও মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ২১ লাখ ৯৪ হাজার ৪১ পিস বার্মিজ ইয়াবাসহ ১৭৩ জন আসামী আটক করে।

ইত্তেফাক/এমআর