নারীদের উত্সাহিত করুন

প্রজ্ঞা আহম্মদ জ্যোতি

পত্রিকা, কিংবা সামাজিক মাধ্যম খুললেই কম করে কয়েকটি রেপ ও নারী নির্যাতনের খবর চোখে পড়া এখন প্রতিদিনের ব্যাপার। যে মানুষ নারী ছাড়া কখনোই পৃথিবীর মুখ দেখত না তাদের দ্বারাই নিগৃহীত আজ নারী। সমস্যা এত চরমে পৌঁছেছে আমি একজন মানুষ হয়ে লজ্জিত হয়ে বলছি, ধর্ষণ করা যেন আজ আধুনিক ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে! একজন নারীকে শুধু একবার নয় বারবার ধর্ষিত হতে হয়। একবার শারীরিকভাবে, বারবার মানসিকভাবে। পৃথিবী কতটা নষ্ট হলে ধর্ষকের পক্ষে কথা বলতেও মানুষ থাকে? যার প্রমাণ আপনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কমেন্টস বক্সে খুব ভালোভাবে পাবেন। হাজার হাজার রেপিস্ট শুধু সেখানেই বাস করে।

আমি সাধুবাদ জানাই বাংলাদেশ সরকারকে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করে যে আইন পাশ করা হচ্ছে তার জন্য। তার সঙ্গে আমি এও দাবি জানাই, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভার্চুয়াল রেপিস্টদের জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক খুব শিগিগরই।

নারী-পুরুষ বিভেদে আমি যেতে চাই না, শুধু বলতে চাই, একটি মহান কর্মে পুরুষ বরাবরই অক্ষম। কারণ একজন নারীই পারে জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ যন্ত্রণা অনুভব করে একটি মানুষকে পৃথিবীর মুখ দেখাতে বা পৃথিবীতে আনতে, যা কখনোই একজন পুরুষ পারবে না। ঠিক সেজন্যই আমি বোরকা ও শাড়ি পরা উভয় রমণীকেই সমানভাবে সর্বোচ্চ সম্মানটাই করি। আপনি যখন ধর্ষণের জন্য পোশাককে দায়ী করবেন, তখন আমি বলব আপনার খুব তাড়াতাড়ি মানসিক ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। দুই মাসের যে শিশুটি রেপ হয়, তার পোশাক নিয়ে আপনার কী বলার আছে? বা যে বৃদ্ধা রেপ হয়েছে সেও কি ওয়েস্টার্ন পোশাক পরেছিল? যাহোক, ধর্ষণ কেন হচ্ছে, কী কারণে হচ্ছে তা নিয়ে অহরহ লেখালেখি হচ্ছে।

ভরা সভায় কৌরবগণ যখন দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণে আগ্রহী, তখন দৈবিকভাবে দ্রৌপদীকে বস্ত্র দিয়ে রক্ষা করলেন শ্রীকৃষ্ণ। এমনটাই লেখা আছে মহাভারতে। কিন্তু আপনার জীবনে আপনার নিজেকেই রক্ষা করতে হবে। জনসমক্ষে একজন নারীকে নিগৃহীত হতে দেখেও যেখানে অন্য মানুষ মজা নেয় বা নির্যাতনকারীর পক্ষ নিয়ে কথা  বলে কিংবা চুপ থেকে নিজেকে বাঁচায়, সেই নষ্ট সমাজে আপনার কিছু চাওয়ার থাকে না। তাই নিজের রক্ষা নিজেকেই করতে হবে। বাংলাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মেয়েদের আত্মরক্ষামূলক কোর্স অন্য বিষয়ের মতো বাধ্যতামূলক করা জরুরি হয়ে পড়েছে। যদিও কিছু প্রতিষ্ঠানে চালু আছে। তা সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া এখন খুব বেশি প্রয়োজন।

দুই দিন পরেই বাঙালি সনাতনধর্মীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উত্সব দুর্গাপূজা। হিন্দু শাস্ত্রমতে বলা হয়, দুর্গা হচ্ছে সেই দেবী যে একাই মহিষাসুরকে বধ করেন। লজ্জার ব্যাপার হলো যেখানে একজন দেবীকে বীররূপে পূজিত হয় সেই ভারতীয় উপমহাদেশেই নারীরা নির্মমভাবে নির্যাতিত! যুগের পর যুগ জন্ম নিয়েছে হাজার বীর ও যোদ্ধা নারী। আমরা সেই দেশে বাস করি, যে দেশে প্রীতিলতার মতো বীর নারী বাস করত।

আপনি কি জানেন হজরত আয়েশা (রা.) ওহুদ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। উম্মে আতিয়া আনসারি (রা.) সাতটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। নারীদের এমন বীর নারীদের মতো হতে উত্সাহিত করুন। তাহলে নারীর রক্ষা নারী নিজেই করতে পারবে।

n লেখক :শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়