রুট পারমিট ছাড়াই ঝুঁকি নিয়ে চলছে স্পিডবোট

আরিচা-কাজীরহাট নৌরুট

শহিদুল ইসলাম সুজন, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

আরিচা-কাজীরহাট নৌরুটে স্পিডবোটের রুট পারমিট না থাকার কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। মেয়াদকাল শেষ হয়ে গেছে অনেক বোটেরই, তবুও তা চলছে ঝুঁকি নিয়েই। নজরদারির অভাবে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করছেন বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষ একাধিকবার লিখিতভাবে স্পিডবোট মালিক সমিতিকে জানালেও রুট পারমিটের বিষয়টি ভ্রুক্ষেপ করেনি তারা। কর্তৃপক্ষ আরো জানায়, একই জায়গায় লঞ্চ ও স্পিডবোট কাউন্টার থাকায় উভয়পক্ষের জন্য তা অনিরাপদ। যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা।

জানা গেছে, গত ৫ বছর যাবত্ স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল ১১টি স্পিডবোট দিয়ে এ অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করছে। রুট পারমিট না থাকায় ইচ্ছেমত ব্যবসা পরিচালনা করায় অল্প পুঁজিতে লোভনীয় মুনাফা পাচ্ছে ব্যবসায়ীরা। ফলে তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা ব্যবসায়ীরা একটি একটি করে ২৯টি স্পিডবোট ব্যবসার উদ্দেশে বাঁধে আরিচা ঘাটে। কিন্তু তাদের বোটগুলোকে সিরিয়ালে আসতে দিচ্ছে না প্রভাবশালীরা—এমন অভিযোগ সাধারণ স্পিডবোট ব্যবসায়ীদের। এছাড়া বিআইডব্লিউটিএর রুট পারমিট না থাকলেও অজ্ঞাতকারণে এসব অবৈধ নৌযান দাপিয়ে বেড়াচ্ছে যমুনা। এদিকে অধিকাংশ বোটে জীবনরক্ষাকারী বয়া কিংবা লাইফজ্যাকেট নেই। এসব জেনেও যাত্রীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছেন যমুনা।

জানা গেছে, আরিচা-কাজীরহাট নৌরুটে প্রায় ৪০টি স্পিডবোট যাত্রী পারাপার করে। এর মাত্র ১১টি বোটই সিরিয়াল মেনে প্রতিদিন যাত্রী পারাপার করে। বাকি ২৯টি বোট থাকে সিরিয়ালের বাইরে। সিরিয়ালের বাইরে থাকা বোটগুলো পরিবহনের যাত্রী পারাপার করে, সর্বসাকুল্যে মাসে এক-দুইটি ট্রিপ দিতে পারে। যা দিয়ে চালকের বেতন দিতেই হিমশিম খেতে হয় মালিকের। অন্য দিকে সিরিয়ালে থাকা বোটগুলো দিনে দুই-তিন বার যাত্রী পারাপার করতে পারে। সিরিয়ালে থাকা বোটগুলো শিবালয় উপজেলার ক্ষমতাসীন দলের নেতারা নিয়ন্ত্রণ করেন।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) আরিচা নদী বন্দর শাখার সহকারী পরিচালক (নৌ-নিট্রা) ফরিদুল ইসলাম জানান, ‘একই জায়গায় লঞ্চ ও স্পিডবোট কাউন্টার থাকায় উভয়পক্ষের জন্য অনিরাপদ। যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা। আমরা একাধিকবার স্থানীয় ও পাবনা জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করেছি। মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাও করা হয়েছে।’

শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বি এম রুহুম আমীন রিমন জানান, অবৈধ স্পিডবোটের বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করলে তিনি বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যানকে জানান। সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।