বাইডেনের পক্ষে এবার প্রচারে নামছেন ওবামা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আগামী ৩ নভেম্বর। দেশটিতে পুরো-মাত্রায় চলছে নির্বাচনি ডামাডোল। এর মধ্যে চলতি সপ্তাহের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তার ডেমোক্রেটিক প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের শেষ নির্বাচনি বিতর্ক, যা অনুষ্ঠিত হবে স্থানীয় সময় আজ বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকাল ৭টা)। এদিকে, এত দিন নির্বাচনের বিষয়ে তেমন একটা তত্পর না হলেও এবার জো বাইডেনের হয়ে সশরীরে প্রচারণার মাঠে নামছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার থেকেই পেনসিলভানিয়া থেকে তিনি প্রচারণা শুরু করেন। নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে এসে দোদুল্যমান রাজ্যগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন বাইডেন ও ট্রাম্প। ওবামাও দোদুল্যমান রাজ্যগুলোকে টার্গেট করবেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট পেনসিলভানিয়া দিয়ে প্রচারণা শুরু করলেন এ কারণেই। ২০০৮ ও ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পেনসিলভানিয়ায় জয় পেয়েছিলেন ওবামা। সে সময় দারুণভাবে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে পেরেছিলেন তিনি। এবারও তিনি বিপুলসংখ্যক কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারকে বাইডেনের পক্ষে টানতে পারবেন বলে আশা করছেন।

মেলানিয়ার কর্মসূচি বাতিল :এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিতে গুরুত্বপূর্ণ দোদুল্যমান রাজ্য পেনসিলভানিয়া সফরের কথা ছিল মার্কিন ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের। তবে তার মুখপাত্র স্টিফানি ট্রিশাম জানিয়েছেন, পূর্বনির্ধারিত সেই সফর বাতিল করেছেন ফার্স্টলেডি। ট্রিশামের দাবি, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর ফার্স্টলেডি এখনো শারীরিকভাবে পুরোপুরি ফিট হননি। এখনো মাঝেমধ্যে তার প্রচণ্ড কাশি হচ্ছে। তাই অসুস্থ বোধ করছেন তিনি। সে কারণেই প্রচার কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারছেন না। গত ২ অক্টোবর সকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন যে তিনি ও মেলানিয়া উভয়েই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউজের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মেলানিয়া বলেন, ‘আমার করোনা ভাইরাস পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ এসেছে এবং আশা করছি দ্রুততর সময়ের মধ্যে নিজের দায়িত্ব পালন শুরু করতে পারব।’

বিতর্ক নিয়ে আগ্রহ :গত ২৯ সেপ্টেম্বর প্রথম বিতর্কে অংশ নিয়েছিলেন ট্রাম্প ও বাইডেন। সেই বিতর্কে বাইডেন ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া পেয়েছিলেন। গোটা যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ টিভিতে এই অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেছিল। আজকে অনুষ্ঠেয় শেষ বিতর্কের জন্য উভয় প্রার্থী ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন, যাতে প্রতিপক্ষকে ধরাশায়ী করতে পারেন।  বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন ইতিহাসে এত উত্তপ্ত বিতর্ক খুঁজে পাওয়া মুশকিল। সেই বিতর্কে ট্রাম্প একাধিকবার বাইডেনকে থামিয়ে দিয়ে নিজের কথা বলার চেষ্টা করেছেন। আর ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একের পর এক বিষয়ে অপমানজনক শব্দ ব্যবহার করেছেন বাইডেন। এ কারণে এবার এক বক্তা কথা বলার সময় অন্যজনের মাইক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আজকের বিতর্কে প্রার্থীরা পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি, করোনা, নির্বাচনে কারচুপির সম্ভাবনা ইত্যাদি নিয়ে জোরালো তর্ক হবে দুই প্রার্থীর মধ্যে। মার্কিন প্রেসিডেনশিয়াল বিতর্কের বিষয় নির্বাচন করে বিতর্ক কমিটি। এ বছর মার্কিন নাগরিকেরা সবচেয়ে বেশি আলোচনা চাইছেন করোনা নিয়ে। সে কারণেই প্রতিটি বিতর্কেই করোনা রাখা হচ্ছে। ট্রাম্প নিজেও করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। সে কারণে একটি বিতর্ক অনুষ্ঠান বাদ দিতে হয়েছে। বাইডেন চেয়েছিলেন বিতর্ক ভার্চুয়াল হোক। কিন্তু ট্রাম্প তাতে সম্মত হননি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রথম বিতর্কের পর ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমেছে। বেশির ভাগ ওপেনিয়ন পোলে ট্রাম্পকে অনেকটাই পেছনে ফেলে দিয়েছেন বাইডেন।

তহবিলেও পিছিয়ে ট্রাম্প :আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রার্থী জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চেয়ে প্রায় ১৪ কোটি ১০ লাখ ডলার (প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা) বেশি তহবিল নিয়ে নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ পর্বে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন। ডেমোক্র্যাট শিবিরের পক্ষ থেকে মার্কিন গণমাধ্যমে ইতিমধ্যে জানানো হয়েছে, ৪৬৬ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা) তহবিল নিয়ে আগামী দিনগুলোর জন্য প্রস্তুতি নিতে যাচ্ছেন বাইডেন।

অন্যদিকে রিপাবলিকান শিবিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তহবিল নিয়ে ততটা ভাবছেন না। শিগিগরই দলের পক্ষ থেকে আরো বেশি তহবিল সংগৃহীত হবে বলে তাদের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়। রিপাবলিকানদের বিশ্বাস, বড় অঙ্কের তহবিল দিয়ে নির্বাচনি বৈতরণি পার হতে পারবেন না বাইডেন।

সিএনএন জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত পর পর দুই মেয়াদে এক ব্যক্তি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। সেই নিয়মে ট্রাম্পের সম্ভাবনাই বেশি। কিন্তু বাইডেন যেভাবে বিভিন্ন জরিপে নিজের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করে চলেছেন, তাতে ট্রাম্পের জন্য যথেষ্ট উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ আছে। তাই নিজের আসন রক্ষার জন্য ট্রাম্পও প্রচুর অর্থ ব্যয় করছেন। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও বাইডেন প্রচুর অর্থ ব্যয় করেছেন। মার্কিন নির্বাচনের বেলায় এটা প্রমাণিত যে দোদুল্যমান ভোটররা নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা পালন করেন। এ কারণে দেশটির নির্বাচনে তহবিল গঠন এত গুরুত্বপূর্ণ।