ধর্ষণের ঘটনায় সালিশ নয়, বন্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে

অনেক সময় ধর্ষণের ঘটনায় সালিশ বা মীমাংসার উদ্যোগ নেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বা মেম্বাররা। এ ধরনের উদ্যোগে ধর্ষককে জরিমানা করা হয়। যদিও বিদ্যমান নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের বিষয়ে সালিশ বা মীমাংসার কোনো সুযোগ নেই। সেজন্য ধর্ষণের ঘটনায় সালিশকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার নির্দেশনা চেয়ে রিট দায়ের করেন মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। ঐ আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট ধর্ষণের ঘটনায় যে কোনো ধরনের সালিশ বা মীমাংসার উদ্যোগ বন্ধ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে। বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ভার্চুয়াল ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বুধবার এ আদেশ দেয়। আদালতের আদেশের বিষয়টি ইত্তেফাককে জানান রিটকারী পক্ষের কৌঁসুলি ব্যারিস্টার অনীক আর হক। তিনি বলেন, হাইকোর্ট বলেছে ধর্ষণ একটি জঘন্য অপরাধ। এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সালিশের সুযোগ নেই। এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হলে আগে মামলা দায়ের করতে হবে।

এদিকে ধর্ষণ মামলার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনকে কার্যকর করতে হাইকোর্টের তিনটি রায়ের নির্দেশনা কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে সেই বিষয়ে সরকারকে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। এছাড়া ধর্ষণের ঘটনায় সালিশের উদ্যোগ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ এম আর রাসেল চৌধুরী। 

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পক্ষে রিট আবেদনটি দায়ের করেন আইনজীবী শাহিনুজ্জামান শাহিন।