করোনার ধাক্কায় এশিয়ার ৪০ শতাংশ গার্মেন্টস শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন

করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লকডাউনে তৈরি পোশাকপণ্যের চাহিদা ব্যাপকভাবে কমে গিয়েছিল। ফলে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সরবরাহ চেইন। তৈরি পোশাকের বেশির ভাগই রপ্তানি হয় এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলো থেকে। করোনার পর চাহিদা কমে যাওয়াসহ নানা কারণে লকডাউন শেষে কারখানা চালুর পর প্রতি পাঁচ জনে তিন জন শ্রমিক কাজে ফিরতে পেরেছে বলে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। অর্থাত্, প্রায় ৪০ শতাংশ শ্রমিক কাজে ফিরতে পারেননি। এছাড়া আলোচ্য সময়ে এ অঞ্চলের গার্মেন্টস খাতের শ্রমিকেরা দুই সপ্তাহ থেকে চার সপ্তাহ পর্যন্ত কাজ করতে পারেননি। আইএলওর এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের লেবার ইকোনমিস্ট ক্রিশ্চিয়ান ভিগেলান এ তথ্য জানান।

এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান ১০টি তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশের ওপর গত জুন মাসে একটি জরিপ চালায় আইএলও। করোনায় বিশ্বব্যাপী লকডাউনে ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানে ঐ ১০টি দেশের রপ্তানিতে কী প্রভাব পড়েছিল, তা ঐ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। গতকাল তা প্রকাশ করা হয়। দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, ভারত, চীন পাকিস্তান, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা ও ফিলিপাইন। গতকাল বুধবার বিশ্বব্যাপী আইএলওর ঐ প্রতিবেদন একযোগে প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষ্যে অনলাইনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।

জুনের পর গত সাড়ে তিন মাসেরও বেশি সময়ে ইউরোপ-আমেরিকায় পোশাকপণ্যের চাহিদা ফের বাড়তে থাকায় এ অঞ্চলের দেশগুলোর রপ্তানিতেও ইতিবাচক ধারা লক্ষ করা গেছে। বিশেষত, গত তিন মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। চলতি মাসেও রপ্তানির ইতিবাচক ধারা রয়েছে বলে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকেরা জানিয়েছেন।

প্রতিবেদনে গত কয়েক মাসের বিষয়বস্তু সেভাবে উঠে আসেনি। বিশেষত বাংলাদেশে করোনার পর কারখানা চালুর পর অনেক শ্রমিক চাকরিচ্যুত হলেও জুলাই থেকে চাহিদা বাড়তে থাকায় কাজ হারানো শ্রমিকের বড়ো অংশই ফের কাজ পেয়েছে বলে দাবি করছে মালিকপক্ষ। বিজিএমইএর হিসাবে, করোনা শুরুর পর এ পর্যন্ত কাজ হারিয়েছেন ১ লাখেরও কম শ্রমিক। যদিও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা এই সংখ্যা ১ লাখ ৩০ হাজার বলে দাবি করছেন।

তবে কারখানার মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে বহু গার্মেন্টস কারখানায় শ্রমিক প্রয়োজন। তারা শ্রমিক চেয়ে নোটিশও টানিয়েছে। তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর পরিচালক ফজলে শামীম এহসান ইত্তেফাককে বলেন, তিনি তার নিজের কারখানার জন্য শ্রমিক চেয়ে নোটিশ টানিয়েছেন। এরকম বহু কারখানা মালিকের এখন শ্রমিকের প্রয়োজন। একই কথা জানিয়েছেন আরেক সংগঠন বিজিএমইএর পরিচালক শহীদুল হক মুকুল।

বাংলাদেশে আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর টুমো পুটিআইনেন বলেন, গত কয়েক মাসে বহু তৈরি পোশাক কারখানায় উত্পাদন শুরু হয়েছে। এছাড়া করোনা পরিস্থিতিতে দেশে শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার লক্ষ্যে একটি গাইডলাইন তৈরিতে আইএলও সহায়তা দিচ্ছে।