চৌগাছায় খেজুরের রস সংগ্রহে প্রস্তুতি নিচ্ছে গাছিরা

শিশির ভেজা প্রভাত শীতের আগমন বার্তা জানান দিচ্ছে চৌগাছায়। একইসঙ্গে খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য প্রাথমিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে ‘গাছিরা’। চৌগাছাসহ যশোরাঞ্চলে ইতিমধ্যে গাছিরা খেজুরগাছ চাঁছার (মাথা পরিষ্কার) কাজ শুরু করেছে। অল্পদিনের মধ্যেই রস বের করে গ্রামের ঘরে ঘরে শুরু হবে গুড়-পাটালি তৈরির উত্সব। বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, গাছিরা গাছ পরিষ্কার বা তোলা-চাঁছার উপকরণ গাছি-দা, দড়ি তৈরিসহ ভাঁড় (মাটির ঠিলে) কিনছেন। এ ছাড়া রস জ্বালানোর জায়গা ঠিক করাসহ বিভিন্ন কাজে তারা ব্যস্ত রয়েছেন।

এ ব্যাপারে চাঁদপাড়া গ্রামের কৃষক আবদুর রহমান বলেন, প্রতি বছর শীতের শুরুতে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করার জন্য আমরা প্রস্তুতি নেই। এবারও একইভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি। তিনি বলেন, আমার ৪০টি খেজুরগাছ রয়েছে। এসব গাছ থেকে রস সংগ্রহ করার জন্য প্রাথমিকভাবে চাঁছাছোলার কাজ করছি। কয়েক দিন আগে থেকেই কাজ শুরু করি। বৃষ্টির জন্য কাজ বাধাগ্রস্ত হয়। আবার শুরু করব। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রইচ উদ্দিন বলেন, গ্রামে গ্রামে কৃষকরা খেজুরগাছের মাথা পরিষ্কারে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতি বছরের মতো এবারও শীতের শুরুতে গাছ চাঁছাছোলাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছেন। পরে হাঁড়ি বসিয়ে রস সংগ্রহ করবেন কৃষক। তিনি আরো বলেন, গত বছর জরিপ করেছিলাম খেজুরগাছ নিয়ে। তখন দেখা গেছে চৌগাছায় প্রায় ৮০-৮৫ হাজার খেজুরগাছ রয়েছে। তবে এসব গাছ ধরে রাখতে হলে ইট ভাটায় খেঁজুরগাছ পোড়ানো বন্ধ করতে হবে। এদিকে কয়েকজন চাষি জানিয়েছেন, খেজুরগাছ আন্যান্য গাছের মতো বপন করা বা সার মাটি দিতে হয় না। প্রাকৃতিক নিয়মেই মাঠে পড়ে থাকা খেজুরের আটি (বিচি) থেকে চারা জন্মায়। বর্তমান খেজুরগাছ ইটভাটার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহূত হওয়ায় বেশ আগের থেকে এ অঞ্চলে গুড়, পাটালির উত্পাদন বহুলাংশে কমে গেছে।