করোনা ভাইরাসে পজিটিভ আসায় মূল দলের দশ জনকে ইউক্রেনে রেখেই মাদ্রিদ সফরে এসেছিল শাখটার ডনেটস্ক। রিয়াল মাদ্রিদ কিনা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সেই দলটার কাছেই হেরে বসল ৩-২ ব্যবধানে! তাও এল ক্লাসিকোর ঠিক আগের ম্যাচেই! এমন হারের দায় নিজ কাঁধে নিয়ে শীঘ্রই সমাধান বের করার আশ্বাস দিয়েছেন কোচ জিনেদিন জিদান। দিনের অন্য ম্যাচে জয় তুলে নিয়েছে শিরোপাধারী বায়ার্ন মিউনিখ, লিভারপুল, ও ম্যানচেস্টার সিটি।
প্রতিযোগিতার ‘বি’ গ্রুপে শাখটারকে আতিথ্য দেওয়ার আগেই চোটের কারণে অধিনায়ক সার্জিও রামোসকে হারায় রিয়াল। স্প্যানিশ এই ডিফেন্ডারকে ছাড়া নিজেদের শেষ সাত ম্যাচের ছয়টিতেই হেরেছিল সপ্যানিশ চ্যাম্পিয়নরা। তাই ম্যাচের আগেই সতর্কবার্তা ছিল জিদানের দলের জন্য। তবে প্রতিপক্ষ শাখটারও খেলতে এসেছিল করোনার কারণে মূল দলের অধিকাংশকে ঘরের মাঠে রেখে।
তবে নিজেদের মাঠে সতর্কবার্তাটা রিয়ালের জন্য বিপদে রূপ নিতে সময় নেয় ২৯ মিনিট। লেমোস মার্টিন্সের গোলটির পরের ১৫ মিনিটে রিয়ালকে আরো ছেঁকে ধরে সফরকারীরা। তাতে ২০০৫ সালের পর প্রথমবারের মতো প্রথমার্ধে তিন গোল হজমের কবলে পড়ে রিয়াল।
দ্বিতীয়ার্ধে লুকা মদ্রিচের গোল আর বদলি ভিনিসিয়াসের দ্রুততম সময়ে রেকর্ড গড়া লক্ষ্যভেদে রিয়ালের আশার পালে জোর হাওয়াই লেগেছিল। শেষ মুহূর্তে ফেদেরিকো ভালভার্দের বল জালে জড়ালেও ভিএআরে দেখা যায় ভালভার্দে বলটি যখন জালে জড়াচ্ছেন, অফসাইডে থেকে গোলরক্ষকের দৃষ্টি আটকে দিচ্ছিলেন ভিনিসিয়াস। ফলে ৩-২ ব্যবধানের হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় রিয়ালকে।
দ্বিতীয়ার্ধে দারুণ লড়েও হার জুটেছে কপালে। দিন চারেক আগে কাদিজের কাছে হারটাও ছিল নিজেদের মাঠে। দলের এমন পারফরম্যান্সের দায়টা মাথা পেতেই নিলেন কোচ জিদান। বললেন, ‘এটা খুবই বাজে অনুভূতি। সবকিছু একসঙ্গে হচ্ছে। প্রথম গোলটায় নিজেদের ভুল ছিল, এরপর থেকেই আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভুগেছি আমরা। দ্বিতীয়ার্ধে আমরা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছি। তবে এটা বাজে এক ম্যাচ ছিল, রাতটাও। কোচ হিসেবে এর সমাধান বের করা উচিত ছিল আমার, যেটা আমি পারিনি।’
গ্রুপের অন্য ম্যাচে বরুসিয়া মুনশেনগ্লাডবাখের সঙ্গে ইন্টার মিলান ২-২ গোলে ড্র করেছে।
এদিকে বায়ার্ন মিউনিখ ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে কিংসলে কোম্যানের জোড়া গোলে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে হারিয়েছে ৪-০ ব্যবধানে। গ্রুপটির অন্য ম্যাচে লোকোমোটিভ মস্কো ও রেডবুল সালজবুর্গ ড্র করেছে ২-২ গোলে। ‘সি’ গ্রুপে ম্যানচেস্টার সিটি পোর্তোর বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও জয় তুলে নিয়েছে ৩-১ ব্যবধানে। ২৩১ দিন পর গোলের দেখা পেয়েছেন সার্জিও আগুয়েরো। এদিকে ‘ডি’ গ্রুপে লিভারপুল আয়াক্সের মাঠে জয় পেয়েছে নিকোলাস টাগ্লিয়াফিকোর আত্মঘাতী গোলে।
এক নজরে
সালজবুর্গ ২-২ লোকোমোটিভ মস্কো
রিয়াল মাদ্রিদ ২-৩ শাখটার ডনেটস্ক
বায়ার্ন মিউনিখ ৪-০ অ্যাট. মাদ্রিদ
ইন্টার মিলান ২-২ বরুসিয়া মুনশেনগ্লাডবাখ
ম্যান সিটি ৩-১ পোর্তো
অলিম্পিয়াকোস ১-০ মার্শেই
আয়াক্স ০-১ লিভারপুল
মিডজিল্যান্ড ০-৪ আটালান্টা