রাশিয়ার বিভিন্ন শহরে বাংলাদেশে নির্বিতব্য রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ভারি যন্ত্রাংশ নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্মাণ প্রক্রিয়ার অগ্রগতি তদারকির জন্য রাশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কামরুল আহসান বিভিন্ন কারখানা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। দেশটির সেইন্ট পিটার্সবার্গ, পেট্রোজাভোদস্ক এবং ভলগাদনস্ক এ অবস্থিত এসব কারখানা পরিদর্শন করেন তিনি।
সেইন্ট পিটার্সবার্গে অবস্থিত পাওয়ার মেশিন গ্রুপের চারটি কারখানায় উৎপন্ন হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি। পাওয়ার মেশিন কোম্পানির তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং জল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য টারবাইন ও জেনারেটর, পরিবহন এবং সমূদ্রগামী জাহাজের যন্ত্রাংশ এবং ট্রান্সফরমারসহ বিভিন্ন বৃহৎ যন্ত্রপাতির নকশা প্রণয়ন এবং উৎপাদনে ১৬০ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। পৃথিবীর ৫৭টি দেশে পাওয়ার মেশিন কোম্পানির উৎপাদিত যন্ত্রাংশ ব্যবহৃত হচ্ছে।
পারমাণবিক শক্তি বিভাগের প্রধান ও উপ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মি. এনটন ভিক্টরভ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য নির্মাণাধীন যন্ত্রপাতি নির্মাণ প্রক্রিয়ার অগ্রগতি বর্ণনা করেন।
পাওয়ার মেশিন গ্রুপের এলএমজেড কারখানাটি রাশিয়ার বৃহত্তম টারবাইন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। রাষ্ট্রদূত কামরুল আহসানকে এলএমজেড কারখানায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের টারবাইনের জন্য নির্মাণাধীন হাই প্রেশার রোটর এবং চারটি লো-প্রেশার রোটর এর নির্মাণ প্রক্রিয়া দেখানো হয়। হাই প্রেশার রোটরের নির্মাণ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। পাওয়ার মেশিনের টুরবা এটমগ্যাজ কারখানায় উৎপন্ন হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের টারবাইনের জন্য হাই প্রেশার সিলিন্ডার, লো-প্রেশার সিলিন্ডার, কন্ডেন্সার সেট, লো-প্রেসার হিটার এবং আরও কিছু যন্ত্রপাতি। ইলেক্ট্রসিলা কারখানায় তৈরি হচ্ছে জেনারেটর এবং পাওয়ার ম্যাশিন-টোশিবা কারখানায় প্রস্তুত হচ্ছে ট্রান্সফরমার।
এসময় রাষ্ট্রদূত জনাব কামরুল আহসান বলেন, নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প সম্পন্ন করা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।
পেট্রোজাভোদস্কমাশ কারখানাটি পেট্রোজাভোদস্ক শহরে অবস্থিত রোসাটম এর কারিগরি বিভাগ এ্যটম-এনার্গোম্যাশ এর অধীনস্থ একটি প্রতিষ্ঠান। শাখার পরিচালক পাভেল মারচেঙ্কো রাষ্ট্রদূত কামরুল আহসানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান।
আরও পড়ুন: দেশে সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ধর্মীয় উৎসব পালন করছে : স্পিকার
পেট্রোজাভোদস্কমাশ কারখানা পরিদর্শনের শুরুতে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক পাভেল মারচেঙ্কো কারখানার অতীত এবং বর্তমান কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রদূত কামরুল আহসানকে অবহিত করেন এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য নির্মাণাধীন যন্ত্রপাতি নির্মাণ প্রক্রিয়ার অগ্রগতি বর্ণনা করেন।
বাংলাদেশের জনগণের জন্য গৌরবজনক এই প্রকল্পটির কাজ গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করা হবে বলে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেন। সভা শেষে কারখানাটির বিভিন্ন বিভাগে রূপপুর প্রকল্পের জন্য নির্মাণাধীন যন্ত্রাংশ পরিদর্শন করা হয়।
কারখানায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের যন্ত্রাংশের নির্মাণকাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করে রাষ্ট্রদূত সন্তোষ প্রকাশ করেন।কারখানাগুলি পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ দূতাবাস মস্কোর নিউক্লিয়ার পাইয়ার উইং এর কাউন্সিলর এবং কারখানাগুলিতে নিয়োজিত বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের পরিদর্শকরাও উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে কারখানাগুলির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং প্রকল্পের জেনারেল কন্ট্রাক্টর জেএসসি অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের প্রতিনিধি রূপপুর প্রকল্পের সার্বিক ব্যবস্থাপনা এবং অগ্রগতি তদারকির জন্য রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
রাষ্ট্রদূত কামরুল আহসান বলেন, বাংলাদেশ ও রাশিয়ার সম্পর্ক ঐতিহাসিক। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের অকুণ্ঠ সমর্থনের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রদূত। আশা প্রকাশ করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।
উল্লেখ্য, ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা ও দেশজ জ্বালানির অপ্রতুলতা বিবেচনায় রেখে পরিবেশবান্ধব এবং আর্থিকভাবে লাভজনক দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে পাবনার রূপপুরে।
ইত্তেফাক/এএএম