চট্টগ্রামে মৃত ব্যক্তির ফেরা

পুরো ঘটনা অনুসন্ধানে সিএমএমকে নির্দেশ

চট্টগ্রামে ‘নিহত’ ব্যক্তি ফেরত আসার ঘটনার সার্বিক অনুসন্ধানে চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে ঐ মামলার আসামি দুর্জয় আচার্যকে জামিন দিয়েছে আদালত। আসামি দুর্জয় আচার্যের পক্ষে জাহিদুল আলম চৌধুরী, রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী শুনানি করেন।

অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গত বছর ২৩ এপ্রিল পুলিশ বাদী হয়ে হালিশহর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এ ঘটনার দুই দিন পর জীবন চক্রবর্তী ও দুর্জয় আচার্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ।                  তাদের মধ্যে জীবন চক্রবর্তী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। গাঁজা খাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিলীপ রায় নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছে বলে জবানবন্দিতে জানান ঐ আসামি। কিন্তু এর কিছু দিন পরে দিলীপ রায়কে জীবিত অবস্থায় আদালতের সামনে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। এরপর ম্যাজিস্ট্রেট দিলীপকে নিজ জিম্মায় ছেড়ে দিয়ে পুলিশকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। এর মধ্যে দুর্জয় হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন। গত ২৯ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট দিলীপ, নথিসহ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুই আসামিকে হাজিরের নির্দেশ দেয়। ঐ নির্দেশ মোতাবেক তারা আদালতে হাজির হন।

আদালতের জিজ্ঞাসার জবাবে দিলীপ বলেন, স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পর মামলার ভয়ে কিছুদিন বোনের বাড়িতে ছিলাম। মামলার দুই আসামি আমার সঙ্গে চট্টগ্রাম স্টিল মিলে একটি রডের কারখানায় চাকরি করে।

দুর্জয় আচার্য বলেন, কেন মামলা হয়েছে আমি জানি না। পুলিশ চার দিন আটকে রেখে আমার ওপর নির্যাতন চালায়। ক্রসফায়ার দেওয়ার কথা বলে আমাকে জবানবন্দি দিতে বলে। কিন্তু আমি জবানবন্দি দেইনি।

জীবন চক্রবর্তী বলেন, ‘তদন্ত কর্মকর্তা সাইফুদ্দীন আমাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে বলে ‘তুই আদালতে গিয়ে বলবি এ পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করে দিলীপকে হত্যা করেছিস।’ আমি পুলিশের মারধরের ভয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছি।’

প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা সাইফুদ্দীন আদালতকে বলেন, জীবন চক্রবর্তী ও দুর্জয় আচার্য জিজ্ঞাসাবাদে দিলীপকে হত্যার কথা স্বীকার করে। আদালত বলেন, তদন্ত করলেন কিন্তু দিলীপ তো ফিরে এলো। তাহলে নিহত ব্যক্তিটি কে? এখন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির ভবিষ্যত্ কী?

মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, তদন্তে জানতে পারি এ দুই আসামির সঙ্গে দিলীপ কাজ করত। দিলীপের তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর মাধ্যমে জানতে পারি সে তার বোনের বাড়ি খাগড়াছড়ি গহিরা এলাকায় থাকে। পরে বোনের মাধ্যমে এবং খাগড়াছড়ির সংশ্লিষ্ট পুলিশ মোবাইল ট্যাগ করে দিলীপকে জীবিত অবস্থায় পায়।