নোয়াখালীর সেই খণ্ডিত লাশের রহস্য উদ্ঘাটন

মাকে পাঁচ টুকরা করে নিজেই হত্যা মামলা দায়ের করে ছেলে

গত ৭ অক্টোবর রাতে নোয়াখালীর সুবর্ণচরের জাহাজমারা গ্রামের ধানখেত থেকে ৫৮ বছরের নুরজাহান বেগমের পাঁচ টুকরা লাশ উদ্ধারের পর প্রকৃত ঘটনাটি উদ্ঘাটিত হয়েছে। ছেলে নিজেই তার মাকে পাঁচ টুকরা করে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছেন। এর আগে নুরজাহান হত্যার বিচার চেয়ে তার সন্তান হুমায়ন পুলিশ ও সাংবাদিকদের কাছে বক্তব্য দেন। এ ঘটনায় হুমায়ন বাদী হয়ে অজ্ঞাত পাঁচ-ছয় জনকে আসামি করে চরজব্বার থানায় একটি হত্যা মামলাও দায়ের করেন।

পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখতে পায়, মামলার বাদী অর্থাত্ নিহতের ছেলে হুমায়নই তার মাকে পাঁচ টুকরা করে হত্যা করেছে। লাশ টুকরা করার জন্য ছেলে এক জন কসাইকে ভাড়া করেছিল। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত বৃদ্ধার ছেলে হুমায়নসহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার করা বাকিরা হলেন কসাই নুরুল ইসলাম, নিরব, হুমায়নের মামাতো ভাই কালাম ওরফে মামুন, মামাতো বোনের স্বামী মিলাদ হোসেন সুমন। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মামুন ছাড়া বাকিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহূত ধারালো চাপাতি, বালিশ, কোদাল, ভিকটিমের ব্যবহূত কাপড় উদ্ধার করেছে। মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে। রবিবার রিমান্ডের শুনানি হবে। এ হত্যার ঘটনার সহযোগী হিসেবে ইসমাইল ও হামিদ নামে আরো দুই জন পলাতক রয়েছেন।

গতকাল সকাল সাড়ে ১১টায় নোয়াখালী জেলা পুলিশের সভাকক্ষে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে এই নৃশংস হত্যার বিষয়ে তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন উপস্থিত ছিলেন। ডিআইজি আনোয়ার হোসেন বলেন, নুরজাহানের আগের ঘরের সন্তান বেলাল ৪ লাখ টাকা ঋণ করে মারা যায়। ঐ ঋণের টাকা পরিশোধ নিয়ে নুরজাহানের সঙ্গে তার বর্তমান স্বামীর ঘরের সন্তান হুমায়ন কবিরের প্রায়শই ঝগড়া হয়। তারই জের ধরে হুমায়ন ছয় জনকে সঙ্গে নিয়ে গত ৬ অক্টোবর রাতে মাকে প্রথমে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করে। পরে তার মরদেহকে পাঁচ খণ্ড করে খণ্ডিত টুকরাগুলো পাওনাদারদের ধানখেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখে।

পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন সাংবাদিকদের জানান, নুরজাহান হুময়ানকে তার ১৩ শতক জমি বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করার জন্য বলেন। কিন্তু হুমায়নের দাবি, তার জমি নয়; মায়ের ১৪ শতক ও মৃত বেলালের স্ত্রীর ১০ শতক জমি বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করতে হবে। এতে তার মায়ের অসম্মতি ছিল। অন্যদিকে, হুমায়ন তার আরেক ভাই দুলালের কাছে সাড়ে ৬২ হাজার টাকা পাওনা ছিলেন। পাওনা টাকা পরিশোধ করার জন্য তিনি ভাইকে প্রায়ই চাপ দিতেন। এ কারণে হুমায়নের মামাতো ভাই কালাম ও মামাতো বোনের স্বামী সুমন ভিকটিমের ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন। বেলালের জমির প্রতি ভিকটিমের প্রতিবেশী ইসমাইল ও হামিদের লোভ ছিল। তাই তারাও হুমায়নকে এই হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করেন।