ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতেই রায়হানের মৃত্যু

বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনের শিকার রায়হানের মৃত্যু অতিরিক্ত আঘাতের কারণেই হয়েছে। ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতে তার শরীরে বেশি জখম হয় বলে জানান ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. মো. শামসুল ইসলাম।

গতকাল বৃহস্পতিবার রায়হানের দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রতিনিধি দলের কাছে হস্তান্তর করেন তিনি। পরে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘দ্বিতীয় ময়নাতদন্তেও প্রথম প্রতিবেদনের সামঞ্জস্য পেয়েছে ফরেনসিক মেডিক্যাল বোর্ড।’

এর আগে গত ১৫ অক্টোবর প্রথম ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পিবিআই এর কাছে হস্তান্তর করে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। ঐ প্রতিবেদনে রায়হানের দেহে ১১১টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। একই সঙ্গে তার মৃত্যু অতিরিক্ত আঘাতে দেহের অভ্যন্তরে রগ ফেটে রক্তক্ষরণের কারণে হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

১১ অক্টোবর ভোরে পুলিশের নির্যাতনে রায়হান উদ্দিনের (৩৩) মৃত্যুর অভিযোগ তুলেন তার স্বজনরা। নিহত রায়হান আখালিয়ার নেহারিপাড়ার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। সেই মামলা তদন্ত করছে পিবিআই।

পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ছিনতাইকালে গণপিটুনিতে মারা গেছেন রায়হান। তবে নিহতের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, পুলিশ ধরে নিয়ে নির্যাতন করে রায়হানকে হত্যা করেছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ। তদন্তে নেমে পুলিশ হেফাজতে রায়হান উদ্দিনের মৃত্যু ও নির্যাতনের প্রাথমিক সত্যতাও পায় তদন্ত কমিটি।

এরপর বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ। অন্য তিন জন হলেন, কনস্টেবল হারুনুর রশীদ, কনস্টেবল তৌওহিদ মিয়া ও কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস। একই সঙ্গে তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়। প্রত্যাহারকৃত পুলিশ সদস্যরা হলো, এএসআই আশেক এলাহী, এএসআই কুতুব আলী ও কনস্টেবল সজিব হোসেন।

১৩ অক্টোবর থেকে পলাতক রয়েছেন বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর। তাকে পালাতে সহায়তা ও তথ্য গোপনের অভিযোগে এসআই হাসান আহমদকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাসকে ঐ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পিবিআই।