শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্থানগুলোতে কোভিড-১৯ সংক্রমণ রোধে এয়ার ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা রাখতে হবে। এয়ার ইন ও এয়ার আউট পয়েন্টে আলট্রা ভায়োলেট রশ্মি ব্যবহার করে করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্থানগুলোতে নির্দিষ্ট সময় পরপর প্রাকৃতিক বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। নতুন ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা রেখে আর্কিটেক্ট প্ল্যান করতে হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপকমিটি আয়োজিত ‘শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্থান ও কোভিড-১৯ : বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে আশু করণীয়’ শীর্ষক বিশেষ ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। উপকমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হোসেন মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ১৪ দলে জোটের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুস সবুর। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আমেরিকার টেক্সাস ইউনিভার্সিটির গবেষক বিকাশ চন্দ্র মণ্ডল এবং কানাডার ডালহৌসি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রবার্ট বাকাইনস্কি পিইঞ্জ। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (আইইবি) সম্মানী সহকারী সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. রনক আহসানের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সভাপতি ও বুয়েটের সাবেক সহউপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আবুল হোসাইন।
অনুষ্ঠানে আমির হোসেন আমু বলেন, সরকারি বা বেসরকারি সব ক্ষেত্রে এইচভিএসি (হিটিং ভেন্টিলেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং)-এর ব্যবহার অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বাড়ছে। তাই এয়ার কন্ডিশনিং কোভিড-১৯-এর ওপর কতটা প্রভাব ফেলছে বা কতটা ঝুঁকি তৈরি করছে, সেটি হালকা করে দেখার উপায় নেই। একটি বিল্ডিং যেটি অলরেডি তৈরি হয়ে আছে সেটিতে এইচভিএসির জন্যে পরিবর্তন, পরিমার্জন সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। তাই আমাদের প্রকৌশলীদের খুঁজে বের করতে হবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পাশাপাশি এডহক ভিত্তিতে কোনো সমাধান বের করা যায় কিনা।
ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সবুর বলেন, এই ওয়েবিনার থেকে প্রাপ্ত সুপারিশমালা আমরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটি এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করব।
ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধে বিকাশ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, এসি করোনা ভাইরাস ছড়ায় না। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্থানের বাইরে থেকে কোনো ভাইরাস যদি ভেতরে চলে আসে তাহলে সেই ভাইরাস দ্রুত যেন বাইরে বের করা যায় সেজন্য পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা থাকা জরুরি। আবদ্ধ জায়গায় বাতাস নিরাপদ বা জীবাণুমুক্ত রাখতে তিনটি প্রধান বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে, এগুলো হলো—ভেন্টিলেশন, এয়ার ফিল্টারেশন ও ডিস্ট্রিবিউশন। কোনো স্থাপনার ভেতরের বাতাস যদি বাইরের বাতাস দিয়ে দ্রুত পরিবর্তন করা হয় তাহলে প্রায় ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত জীবাণু দ্রুত বের করে ফেলা সম্ভব। প্রতি ঘণ্টায় ১০ বার করে বাতাস পরিবর্তন করলে ৩১ মিনিটের মধ্যে বাতাস নিরাপদ করা সম্ভব। তবে এসব কিছুই ইন্টিগ্রেটেড অর্থাত্ সমন্বিত উপায়ে করতে হবে।