আক্ষেপে পুড়ছেন সাইফউদ্দিন

জান-ই-আলম

ছুটি পেয়ে নিজ শহর ফেনীতে চলে গেছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। বৃষ্টিস্নাত দিনে ঘরে বসেই অলস সময় কাটছে তার। গতকাল মুঠোফোনে বলছিলেন, অনেক দিন পর বাড়ি এসেও বের হতে পারছেন না। বৃষ্টির কারণে ঘরবন্দি থাকার চেয়ে সাইফউদ্দিনের মনে বড় আক্ষেপের সুর বাজছে বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপকে ঘিরে। টুর্নামেন্ট সেরা হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নেমেছিলেন তিনি। লিগ পর্ব শেষে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিও (১২) এই তরুণ পেস বোলিং অলরাউন্ডার। ব্যাটিংয়ে ৬৩ রান করেছিলেন।

কিন্তু এমন পারফরম্যান্সের পরও টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলা হচ্ছে না সাইফউদ্দিনের। ফাইনালে উঠতে না পারার আফসোসই পোড়াচ্ছে তাকে। চার ম্যাচে একটি জয় পাওয়া সাইফউদ্দিনের দল তথা তামিম একাদশ ছিটকে পড়েছে টুর্নামেন্ট থেকে।

ফাইনালে যেতে না পারার আক্ষেপ রয়েছে কিনা প্রশ্নে গতকাল সাইফউদ্দিন বলছিলেন, ‘অবশ্যই আছে। এখনো খারাপ লাগছে। বিশ্বাস করতে পারছিলাম না এমন ম্যাচ হারব। কারণ নিজের সর্বোচ্চটা দিয়েছি আমি, শেষ ম্যাচেও। আমি নিজে থেকে চাইছিলাম একটা ম্যাচ বেশি খেলব। সেরা বোলার বা ম্যান অব দ্য সিরিজ—এমন একটা লক্ষ্য ছিল টুর্নামেন্টের শুরুর দিকে। হয়তো বা প্রথম দুটি ম্যাচে নিজেকে ঐভাবে মেলে ধরতে পারি নাই। পরের দুই ম্যাচে কিছুটা হলেও কাম ব্যাক করতে পেরেছি।’

২৩ বছর বয়সি এই অলরাউন্ডার আরো বলেন, ‘শেষ ম্যাচে যখন ওদেরকে ১৬৫ রানে অলআউট করি, তখন একটা আশা ছিল। ক্রিকেটে আসলে অনেক কিছু সম্ভব। এটাই তার প্রমাণ। এই ম্যাচটা আমাদের জন্য অনেক শেখার জায়গা। ক্রিকেটে যে কোনো কিছু ঘটতে পারে। আর যদি আক্ষেপ বলেন, অবশ্যই আছে। এখানে এসেও বৃষ্টিতে আটকে আছি।’

গত ২১ অক্টোবর জিততেই হবে এমন সমীকরণের ম্যাচে নাজমুল একাদশের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত বোলিং করেছিলেন সাইফউদ্দিন। টুর্নামেন্টে প্রথম বোলার হিসেবে ২৬ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন। ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ১৬৪ রানের টার্গেট পাড়ি দিতে পারেনি তামিমের দল। ১০ নম্বরে নেমে একটি ছক্কাসহ সাইফউদ্দিন ১০ রান করেন। কিন্তু তার দলের শেষ রক্ষা হয়নি।

টুর্নামেন্টে বোলারদের মধ্যে চার ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রুবেল। তারপরই আছেন ৮ উইকেট পাওয়া মুস্তাফিজ। সাদা বলের দুই ফরম্যাটে বাংলাদেশের বড় অস্ত্র মুস্তাফিজ-সাইফউদ্দিন জুটি। তামিম একাদশের হয়েও তারা দারুণ বোলিং করেছেন। যদিও ফাইনালের মঞ্চে নেই তারা।

সাইফউদ্দিন অবশ্য আশা করছেন, ফাইনালে মাহমুদউল্লাহ একাদশের পেসার রুবেল ছাড়িয়ে যাবেন তাকে।  গতকাল তিনি বলেছেন, ‘সেরা বোলার হতে পারব কিনা জানি না। রুবেল ভাই দারুণ বোলিং করছে। উনিও হতে পারেন। আর পেসাররা ভালো করা আমাদের বাংলাদেশের জন্যই ভালো।’