ধর্ষণ মামলার আসামিকে চেয়ারম্যান বানাতে পাগল কারা :নিক্সন চৌধুরী

ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী (নিক্সন) বলেছেন, ‘চর ভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে যুবদল নেতা, ধর্ষণ মামলার আসামি ওবায়দুল বারী দিপু খা’কে চেয়ারম্যান বানাতে উঠেপড়ে লেগেছিল কারা? ঐ নির্বাচনে ভোটের দিন বিনা অপরাধে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হয়রানি ও           আটকের পেছনে উদ্দেশ্য কি? আমি খুন, চুরি, ধর্ষণ বা ডাকাতি করি নাই, আমার কোনো ভয় নাই। আমার বিরুদ্ধে একটা মামলা হয়েছে, আমার কর্মীর জন্য এমন ১০০ মামলা হলেও আমি সব সময় প্রস্তুত আছি।’

গতকাল শুক্রবার বিকালে চর ভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন ওরফে ভিপি মুসার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নিক্সন চৌধুরী এমপি এসব কথা বলেন। চর ভদ্রাসন উপজেলা আওয়ামী লীগ এই স্মরণসভার আয়োজন করে। উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে শামিয়ানা টাঙিয়ে এই সভার আয়োজন করা হয়। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে বিকাল ৩টা থেকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ জনগণ যোগ দেন।

সভায় নিক্সন চৌধুরী বলেন, আমি উপজেলাবাসীর কাছে জানতে চাই, ১০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী যুবদল নেতা ওবায়দুল বারী দিপু খাঁ ধর্ষণ মামলার ২ নম্বর আসামি, মামলার ১ নম্বর আসামি তার ভাই রাশেদুল বারী। ঐ মামলার চার্জশিট হয়ে গেছে, মামলাটির বিচার কার্যক্রম যাতে না চলে সেজন্য আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিয়ে রেখেছে। এই ওবায়দুল বারী দিপু খাঁ পদ্মা নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে ভাঙনকবলিত চর ভদ্রাসন উপজেলাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। সেই দিপু খাঁকে নির্বাচনে জেতাতে কেন উঠেপড়ে লাগল প্রশাসন।

নিক্সন চৌধুরী বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দিনরাত এক করে জনগণের সেবা করে যাচ্ছি, পরিবার ছেড়ে আপনাদের পাশে রয়েছি। করোনাকালেও প্রতি সপ্তাহে আপনাদের সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে গ্রামে গ্রামে ছুটেছি আমি। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে মহানগর সব জায়গায় উন্নয়নের জোয়ার চলছে। অন্যদিকে ভূমি অফিসে যান, টাকা ছাড়া কাজ হবে না, উপজেলায় যাবেন টাকা ছাড়া কাজ হবে না। ভূমি অফিস হয়েছে এখন একটি দুর্নীতির আখড়া। উন্নয়ন মানে শুধু রাস্তা, কালভার্ট, ভবন নির্মান না, সরকারি অফিসে জনগণের কাজকে সহজ ও স্বচ্ছ করাও উন্নয়ন। আজ ঐ অফিসে বসে থাকা কর্তাদের জন্য বঙ্গবন্ধু কন্যার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এসব অফিসের সব দুর্নীতির বিচার চান। এ সময় উপস্থিত হাজারো জনতা বিচার চাই বিচার চাই স্ল্লোগানে সভাস্থল প্রকম্পিত করে তোলেন।

নিক্সন চৌধুরী বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচনে ভোটগ্রহণের দিন আমার এক নিরীহ কর্মীকে বিনা অপরাধে ধরা হয়েছে। আমি এর প্রতিবাদ করলে আমার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। গত সাত বছর আপনারা আমাকে যেভাবে ভালোবাসা দিয়েছেন, দোয়া দিয়েছেন, পাশে থেকেছেন, আগামীতেও সেভাবে আমার পাশে থাকবেন। কর্মীর জন্য আমি ১০০ মামলা খেলেও আমার কোনো দুঃখ থাকবে না, শুধু আপনারা পাশে থাইকেন বিগত দিনের মত।’

প্রয়াত চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেনকে স্মরণ করে নিক্সন চৌধুরী বলেন, সদালাপী ও পরোপকারী একটা মানুষ ছিলেন মুসা ভাই। তার সঙ্গে চরে রাতও কাটিয়েছি। সব সময় মানুষের ও এলাকার উন্নয়ন নিয়ে চিন্তা করতেন। এত অল্প দিনে তিনি চলে যাবেন, ভাবতে পারিনি। তার চলে যাওয়া শুধু আমাদের না, পুরো উপজেলাবাসীর জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার আলী মোল্যার সভাপতিত্বে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, সদরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী শফিকুর রহমান, ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহাদত হোসেন, চর ভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজনীন খানম, জেলা পরিষদের সদস্য বিউটি আক্তার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান মোল্যা প্রমুখ।