টঙ্গীতে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বেহাল অবস্থায় পরিবহন চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে ক পরিবহন যাত্রী। আর যানজটমুক্ত করতে কঠোর পরিশ্রম করে ব্যর্থ হচ্ছে স্থানীয় ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বিআরটিএর গৃহীত তিন বছরমেয়াদি প্রকল্পের সময় শেষ হলেও এ পর্যন্ত ১০ শতাংশ কাজও বাস্তবায়ন হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, উত্তরা আজমপুর থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত বিআরটিএর প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় মহাসড়কের উভয় পাশের সড়ক ভেঙে খানাখন্দে পরিণত হয়ে পরিবহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে যে পথ পাড়ি দিতে ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগার কথা বর্তমানে সময় লাগছে এক থেকে দেড় ঘণ্টা। কোনো কোনো সময় তা অসহনীয় পর্যায়ে পড়ে। যাত্রীদের অভিযোগ, পরিবহন চলাচলের জন্য বিকল্প সড়ক তৈরি না করেই মহাসড়ক বন্ধ করে প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে বিআরটিএ। গাড়ির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় পাঁচ কিলোমিটার থাকায় সকাল থেকে শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত আব্দুল্লাহপুর থেকে টঙ্গী গাজীপুরা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত যানজট লেগে থাকে।
এছাড়া প্রতিদিনই খানাখন্দে পড়ে ঘটছে দুর্ঘটনা। পরিবহন যাত্রীদের পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়ছে টঙ্গী জোনাল ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। এ ব্যাপারে টঙ্গী ট্রাফিক পুলিশের জোনাল (এসি) পীযূষ কুমার দে জানান, আমরা এক বছর ধরে এই ভোগান্তিতে আছি। সড়ক সংস্কারে বিআরটিএ প্রকল্প পরিচালককে একাধিক বার অভিযোগ দেওয়ার পরও সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। যানজট নিয়ন্ত্রণ করতে প্রতিদিন ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের চার ঘণ্টা অতিরিক্ত ডিউটি করে ও যানজট নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। একদিকে পর্যাপ্ত পরিবহনের চাপ অন্যদিকে সড়কে খানাখন্দ হয়ে পানি জমে বেহাল অবস্থায় দিশাহারা হয়ে পড়ছি। দ্রুত মহাসড়ক সংস্কার না হলে পরিবহন চলাচল স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে বিআরটিএ প্রকল্পের প্রকৌশলী চন্দন বসাকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি উত্তেজিত হয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং সড়ক সংস্কারের ব্যাপারে বক্তব্য দিতে অস্বীকার করেন।