যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর মাত্র ৯ দিন বাকি। প্রধান দুই প্রার্থী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এখন প্রচারণায় ব্যস্ত। তবে শেষ সময়টাতে দুই প্রার্থীই জোর দিচ্ছেন জয় নির্ধারণী সুইং স্টেট বা দোদুল্যমান রাজ্যগুলোতে প্রচারণায়। গতকাল শনিবার তিন সুইং স্টেটে প্রচারণা চালান ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ পেনসিলভেনিয়া রাজ্যে নির্বাচনী সমাবেশ করেন জো বাইডেন। তার পক্ষে ফ্লোরিডায় সমাবেশ করেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে শুক্রবার পর্যন্ত ৫ কোটি ৩৫ লাখ ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন। ৩ নভেম্বরের আগে রেকর্ডসংখ্যক আগাম ভোট পড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে গতকাল ফ্লোরিডাতে আগাম ভোট দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে ভোট দেন তিনি। গত বছর ট্রাম্প তার স্থায়ী বসবাসের ঠিকানা ও ভোটার নিবন্ধন নিউ ইয়র্ক থেকে পরিবর্তন করে ফ্লোরিডা করেন। খবর:দ্য গার্ডিয়ান ও রয়টার্সের।
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন পদ্ধতি অন্য দেশের তুলনায় ভিন্ন এবং কিছুটা জটিল। যেখানে ভোটারদের সরাসরি ভোটে প্রেসিডেন্ট হন না। বরং ইলেকটোরাল কলেজ নামে যে বিশেষ নির্বাচনী ব্যবস্থা আছে—তার মাধ্যমেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ইলেকটোরাল কলেজের ভোটকে বলা যায় ‘ইলেকটোরাল ভোট’। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে জনসংখ্যার ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্নসংখ্যক ইলেকটোরাল ভোট আছে। নিয়ম হলো—দুটি ছাড়া প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে যে প্রার্থী সবচেয়ে বেশি পপুলার ভোট পাবেন, তিনি ওই রাজ্যের সবগুলো ইলেকটোরাল ভোট জিতবেন। এভাবে ৫৩৮ ইলেকটোরাল ভোটের মধ্যে যে প্রার্থী ২৭০টি ভোট পাবেন—তিনিই হবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।
যুক্তরাষ্ট্রে বেশির ভাগ অঙ্গরাজ্যে দুই দলের প্রভাব রয়েছে। কিছু রাজ্যে ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকান প্রার্থীই জয়ী হন। আর কিছু রাজ্যে বরাবরই ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা জয় পান। এর বাইরে কিছু অঙ্গরাজ্য আছে যেখানে প্রার্থীদের কারণে ভোট যে কোনো শিবিরে যেতে পারে। এসব রাজ্যই সুইং স্টেট নামে পরিচিত। যেখানে নির্ধারিত হয় কে প্রেসিডেন্ট হবেন। তাই প্রার্থীদের প্রচারণার সময় ও খরচ বেশি হয় এসব রাজ্যেই।
গতকাল দ্য গার্ডিয়ানের এক খবরে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের নির্বাচনে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হবে আটটি অঙ্গরাজ্যে। এগুলো হলো—ফ্লোরিডা, পেনসিলভেনিয়া, ওহাইয়ো, মিশিগান, নর্থ ক্যারোলিনা, অ্যারিজোনা, উইসকনসিন ও আইওয়া। এসব রাজ্যে ইলেকটোরাল কলেজ ভোটের সংখ্যা ১২৫টি। কোনো প্রার্থীকে জিততে হলে বেশির ভাগ সুইং স্টেটে অবশ্যই জয় পেতে হবে। এ কারণেই প্রার্থীদের জোর তত্পরতা সুইং স্টেটগুলোতেই।
গার্ডিয়ানের খবরে আরো বলা হয়েছে, জাতীয় পর্যায়ে জরিপে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন বাইডেন। আর আট সুইং স্টেটের ছয়টিতেই এগিয়ে আছেন তিনি। ফ্লোরিডাতে ২ দশমিক ৭, পেনসিলভেনিয়াতে ৫ দশমিক ২, মিশিগানে ৬ দশমিক ৯, নর্থ ক্যারোলিনাতে ২ দশমিক ৭, অ্যারিজোনাতে ২ দশমিক ৮ এবং উইকনসিনে ৬ দশমিক ৩ পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে বাইডেন। আর ওহাইয়োতে ১ দশমিক ৮ পয়েন্ট এবং আইওয়াতে শূন্য দশমিক ১ পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে আছেন ট্রাম্প। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো—২০১৬ সালের নির্বাচনে এই আট রাজ্যেই জয় পেয়েছিলেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু ব্যবধান খুবই সামান্য ছিল।
গতকাল ট্রাম্প নর্থ ক্যারোলিনা, ওহাইয়ো এবং উইসকনসিনে নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নেন। এর আগে শুক্রবার ফ্লোরিডাতে এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, খুব শিগিগরই করোনা মহামারি শেষ হবে। তিনি সমালোচনা করে বলেন, মার্কিনিদের ভয় দেখাতে স্বাস্থ্য সংকট নিয়ে বাড়াবাড়ি করছেন বাইডেন। অন্য দিকে একইদিন ডেলাওয়ারে এক ভাষণে বাইডেন বলেন, জিতলে দায়িত্ব গ্রহণের ১০ দিনের মধ্যে করোনা মোকাবিলায় সমন্বিত কোভিড-১৯ বিল পাশ করবেন। তিনি বলেন, আমি অর্থনীতি বা দেশ অচল করব না, বরং করোনা ভাইরাসকে অচল করে দেব। গতকাল শনিবার পেনসিলভেনিয়াতে সমাবেশ করেন বাইডেন। এই রাজ্যে ট্রাম্পের সঙ্গে তার ব্যবধান আগের চেয়ে কমে আসছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সুইং রাজ্যের জরিপে দুই প্রার্থীর ব্যবধান অনেক বেশি নয়। শেষ সময়ে পরিস্থিতি বদলেও যেতে পারে।