শিক্ষককে গলা কেটে ও ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা

 ইত্তেফাক ডেস্ক

গত ২৪ ঘণ্টায় নড়াইলে এক কলেজশিক্ষককে গলা কেটে এবং চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় গাড়ি ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া যশোরে এক মুক্তিযোদ্ধার ছেলের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব ঘটনায় গতকাল শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি।

নড়াইল প্রতিনিধি জানান, জেলার পল্লিতে একটি বেসরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অরুণ কুমার রায়কে নিজ বাড়িতে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার সদর থানার তুলারামপুর ইউনিয়নের বেনাহাটি গ্রামে। নিহত অরুণ রায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, খুলনা অঞ্চলের উপপরিচালক নিভা রাণী পাঠকের স্বামী।

নিহতের স্ত্রী জানান, তার স্বামী গ্রামের বাড়িতে একাই থাকতেন। তিনি খুলনায় থাকেন। পূজা উপলক্ষ্যে শুক্রবার সন্ধ্যায় ছেলের বাড়িতে গিয়ে বাবার গলাকাটা রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। তিনি বলেন, ঘরে প্রবেশের মূল গেট তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল। তবে ছাদ দিয়ে ঘরে প্রবেশের জায়গা খোলা ছিল।

সদর থানার ওসি ইলিয়াস হোসেন জানান, কখন কে বা কারা এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে,        সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করতে গিয়ে চোর সিন্ডিকেটের হামলায় এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম শফিকুল ইসলাম প্রকাশ মিয়া (৩৮)। তিনি পেশায় একজন গাড়ি ব্যবসায়ী। গতকাল শনিবার ভোরে উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নে বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের আমতল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতের পরিবার ও থানা সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে সত্যপীর দরগাহ এলাকায় শফিকুলের ভাই জাহাঙ্গীরের বাসার সামনে থেকে তার মোটরসাইকেলটি চুরি যায়। জাহাঙ্গীর তার বন্ধু তৈয়বকে নিয়ে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করে একপর্যায়ে আমতল এলাকায় অন্য এক লোকের কাছে মোটরসাইকেলটি দেখতে পান। দুই বন্ধু দ্রুত চোরকে ধরে বেধড়ক পিটিয়ে বেঁধে রাখেন। পরে শফিকুলকে মোবাইলে ডেকে আনেন। শফিকুল আসার পর পাশের ঝোপ থেকে চোর সিন্ডিকেটের আরো কয়েক জন বের হয়ে তাদের এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। রডের আঘাতে শফিকুল গুরুতর আহত হন। আহত অবস্থায় কেরানীহাট আশশেফা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।  

যশোর অফিস জানায়, এক মুক্তিযোদ্ধার ছেলেকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার সকালে শহরের সিঅ্যান্ডবি রোডের পাশ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত ইসরাফিল হোসেন ওরফে মন্নাত (৪০) মনিরামপুর উপজেলার কাশিপুর খেদাপাড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা বজলুর রহমানের ছেলে। তিনি যশোর শহরের বকচর বিহারি কলোনির মোস্তফার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। পুলিশ জানায়, মন্নাত শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাসা থেকে বাইসাইকেলযোগে বের হয়ে আর বাড়ি ফেরেননি। নিহতের মাথা ও মুখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, মরহেদ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। খুনের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতের আটকের জন্য পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।