রাবেয়া বেবী
ব্যাংকে কাজ করেও মানুষের সেবা করা যায় বলে মনে করেন শিরীন আক্তার। সরকারের ব্যাংকিং সেক্টরে সোনালী, রূপালী, অগ্রণী, জনতা, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের এই সময়ে কর্মরত একমাত্র নারী উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ডিএমডি শিরীন আখতার। ৩১ বছর কর্মজীবনে নানা চড়াই উতরাই, ঘাত-প্রতিঘাত পার করে অভিজ্ঞতার ঝুলিকে করেছেন সমৃদ্ধ। দেখেছেন পুরুষরা শুধু প্রতিযোগিতাই করেন না, সহযোগিতা করে পাশেও থাকেন।
১৯৮৮ সালে বিআরসি রিক্রুটম্যান্ট দিয়ে অগ্রণী ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার হিসেবে যোগ দেন। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেন রাষ্ট্র বিজ্ঞানে। ব্যাংকিং পেশায় আসেন নিজের প্রবল ইচ্ছার জোরে। পরিবারের ইচ্ছাটা ছিল অন্যরকম। তবে প্রবল সেই ইচ্ছের ঝড়ে উড়ে যায় পরিবারের চাওয়া। শিরীন জানান, সে সময় চাকরির বাজারে বিসিএস আর ব্যাংকিংয়ের কদর ছিল বেশি। আর আজ উপলব্ধি করেন পছন্দ আর সিদ্ধান্তটা ভুল ছিল না। ব্যংকিং খাতে মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ আছে। আছে নারী-পুরুষের সঙ্গে কাজের চ্যালেঞ্জ।
নিজের পথচলা থেকে বলেন, আজও ঘর-কন্যার গুরুদায়িত্ব নারীর হওয়ায় আর ব্যাংকের কাজের সময় বেশি দিতে হয় বলে মেয়েরা এই পেশায় তেমন একটা আসতে চায় না। তবে সময় বদল হচ্ছে, ইদানিং অনেক মেয়েরাই ব্যাংকের নানা পদে আসিন আছেন। নিজের কাজ আর সংসারের সঙ্গে কীভাবে তাল রেখে চলেন প্রশ্ন করলে ব্যাংকার স্বামী আর এক ছেলের সংসারে স্বামীকে সবসময় পাশে পেয়েছেন বলে জানান শিরীন। বলেন, ছেলেও একটু বড় হয়ে মা কর্মজীবী তা বুঝেই চলে।
কর্মজীবনে ঢাকার বাইরে সিলেট, ফরিদপুর ময়মনসিংহেও কাজ করেছেন। বলেন কাজ করলে বদলির সিদ্ধান্তটা নারীকে মেনে নিতে হবে। স্বামী সংসার সন্তানকে নিয়ে অনেক নারী বদলিকে পাশকাটিয়ে যায় আবার চাকরিও ছেড়ে দেয় কেউ কেউ। কিন্তু আমি মনে করি চাকরি করলে পুরো দায়িত্ব নিয়েই করতে হয়। কখনো যেন এমন কথা না হয় নারী বলে ঢাকার বাইরে যান না। দায়িত্ব নিয়েই সিনিয়র অফিসার থেকে প্রিন্সিপাল অফিসার, সিনিয়র প্রিন্সিপল অফিসার, এজিএম, ডিজিএম, জিএম অবশেয়ে ডিএমডি হন। আবার সংসারের প্রতিই থেকেছেন আন্তরিক। এক ছেলে পড়াশোনায় মেধার স্বাক্ষর রেখে আজ একটি বেসরকারি ব্যাংকের ফাস্ট এ্যাসিসটেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কর্মরত। এই দীর্ঘ সময় কাজ করে আজ যখন পেছন ফিরে চান তখন উপলব্ধি করেন নারী-পুরুষের আগে যোগ্যতা। একে প্রাধান্য দিলে কাজেরও উন্নতি হবে আর ব্যক্তি মানুষের তো বটেই।