যুক্তরাষ্ট্রে এক মেয়াদের প্রেসিডেন্ট ছিলেন যারা

তালেব রানা

 

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে জয়ী হতে লড়ছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিভিন্ন নির্বাচনি জরিপে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের চেয়ে স্পষ্ট ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছেন। এসব জরিপের ফল দেখলে মনে হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্বাচনে হারতেও পারেন। যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য নির্বাচন করে হেরেছেন এমন মার্কিন প্রেসিডেন্টের সংখ্যাও কম নয়।

দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ভোটারদের কাছে সর্বশেষ প্রত্যাখ্যাত হন ৪১তম প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ (১৯৮৯-১৯৯৩)। হোয়াইট হাউজে বুশের আনুষ্ঠানিক জীবন ইতিহাস থেকে জানা যায়, সামরিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে নজিরবিহীন জনপ্রিয়তা ছিল এই রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের। কিন্তু অর্থনৈতিক দুর্বলতা, সহিংসতা বৃদ্ধি এবং ব্যয়ে ঘাটতি বাড়তে থাকায় নির্বাচনে হেরে যান তিনি।

দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য লড়াই করে হেরে যান যুক্তরাষ্ট্রের ৩৯তম প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার (১৯৭৭-১৯৮১। ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট কার্টার মূলত হেরেছিলেন ইরানে মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের জিম্মি করে রাখার ঘটনায়। যেদিন কার্টার অফিস ছাড়েন সেদিনই ৫২ মার্কিনিকে মুক্তি দেয় ইরান।

জিততে পারেননি রিপালিকান প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড আর ফোর্ড (১৯৭৪-১৯৭৭)। যুক্তরাষ্ট্রের ৩৮তম এই প্রেসিডেন্ট হেরেছিলেন জিমি কার্টারের কাছেই। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক মন্দা থেকে উত্তরণে ব্যর্থ হওয়া তার পরাজয়ের বড় কারণ ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের ৩১তম প্রেসিডেন্ট হার্বার্ট হুভার (১৯২৯-১৯৩৩) দ্বিতীয়বার নির্বাচন করতে গিয়ে হেরে যান ডেমোক্র্যাট ফ্র্যাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্টের কাছে। ১৯২৮ সালে নির্বাচনে রিপাবলিকান হুভার জেতার কিছু দিনের মধ্যেই মার্কিন শেয়ারবাজারে বিপর্যয় হয়। মহামন্দায় ডুবে যায় মার্কিন অর্থনীতি।

যুক্তরাষ্ট্রের ২৭তম প্রেসিডেন্ট রিপাবলিকান উইলিয়াম হাওয়ার্ড ট্যাফট (১৯০৯-১৯১৩) রি-ইলেকশনে হেরেছিলেন ডেমোক্র্যাট উড্রো উইলসনের কাছে। তার হারার কারণ ছিল তিনি বহু উদারপন্থি রিপাবলিকানদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিলেন, যারা প্রগ্রেসিভ পার্টি গঠন করেছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের ২৩তম প্রেসিডেন্ট বেঞ্জামিন হ্যারিসন (১৮৮৯-১৮৯৩) রিইলেকশনে হেরে যান ডেমোক্র্যাট গ্রোভার ক্লিভল্যান্ডের কাছে। ভালো রাজস্ব উদ্বৃত্ত হঠাত্ করেই নিঃশেষ হওয়ার কারণে রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ে হ্যারিসনের প্রশাসন।

যুক্তরাষ্ট্রের ২২তম ও ২৪তম প্রেসিডেন্ট গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড (১৮৮৫-১৮৮৯ এবং ১৮৯৩-১৮৯৭)। তিনি ধারাবাহিকভাবে দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্ট ছিলেন না। প্রথম মেয়াদের পর রিইলেকশনে তিনি হেরে যান বেঞ্জামিন হ্যারিসনের কাছে। যদিও হ্যারিসন পরের মেয়াদে সেই ক্লিভল্যান্ডের কাছেই হারেন।

যুক্তরাষ্ট্রের অষ্টম প্রেসিডেন্ট ডেমোক্র্যাট মার্টিন ভ্যান বুরেন (১৮৩৭-১৮৪১) দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য নির্বাচন করে হেরে যান উইলিয়াম হেনরি হ্যারিসনের কাছে। অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে হেরে যান তিনি। যদিও প্রেসিডেন্ট হওয়ার কিছুদিন পর মৃত্যুবরণ করেন হেনরি হ্যারিসন। যুক্তরাষ্ট্রে পদে থাকা অবস্থায় কোনো প্রেসিডেন্টের মৃত্যুর এটিই একমাত্র ঘটনা।

ষষ্ঠতম প্রেসিডেন্ট জন কুইন্সি অ্যাডামস (১৮২৫-১৮২৯) দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য নির্বাচন করে হেরে যান অ্যান্ড্রু জ্যাকসনের কাছে। অ্যাডামসের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও লুটতরাজের অভিযোগ উঠেছিল।

দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট জন অ্যাডামস (১৭৯৭-১৮০১) যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ‘ফাউন্ডিং ফাদার’। ফেডারালিস্ট এই নেতা ১৮০০ সালে হেরে যান ডেমোক্র্যাটিক-রিপাবলিকান থমাস জেফারসনের কাছে।

সম্ভবত, লিন্ডন জনসনও এক মেয়াদের প্রেসিডেন্ট যদিও তিনি ১৯৬৩ থেকে ১৯৬৯ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬০ সালে তিনি জন এফ কেনেডির ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৬৩ সালে কেনেডি নিহত হওয়ার পর তিনি প্রেসিডেন্ট হন এবং ১৯৬৪ সালে তিনি নিজেই নির্বাচনে জয়লাভ করেন।

মার্কিন ইতিহাসে এক মেয়াদের চেয়ে দুই মেয়াদে থাকা প্রেসিডেন্টের সংখ্যাই বেশি। ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদেও প্রেসিডেন্ট হবেন নাকি এক মেয়াদ শেষে বিদায় নেবেন সেটা জানতে আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।