নেই পর্যাপ্ত জনবল সেবাগ্রহীতাও কম

উল্লাপাড়ায় মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র

উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে (এনসিডাব্লিউসি) পর্যাপ্ত জনবলের অভাবসহ সেবাগ্রহীতাদের কাঙ্ক্ষিত উপস্থিতি নেই বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, গর্ভবতী মায়েদের স্বাভাবিক প্রসবের (নরমাল ডেলিভারি) ক্ষেত্রে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকলেও স্বাভাবিক প্রসবের জন্য সেখানে মায়েদের উপস্থিতি কম। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি অক্টোবর মাসের অর্ধেক পার হয়ে গেলেও এ কেন্দ্রে নরমাল ডেলিভারি জন্য একজনও গর্ভবতী মা ভর্তি হয়নি।

উল্লাপাড়া উপজেলা সদরের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে গর্ভবতী মায়েদের নরমাল ডেলিভারি করানোর জন্য ১০টি শয্যা রয়েছে। জানা যায়, কেন্দ্রটিতে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা (এফডাব্লিউভি) পদে তিন জনের মধ্যে এক জন পরিবার পরিকল্পনা সেবা বিভাগে এবং অপর দুই জন মা ও শিশু স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরত রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে এখানে একজন ধাত্রী নার্স ও অফিস সহায়ক পদ শূন্য রয়েছে।

সরেজমিনে কেন্দ্রটিতে গিয়ে দেখা যায়, পরিবার পরিকল্পনা বিভিন্ন পদ্ধতি ও পরামর্শের জন্য কিছুসংখ্যক নারী এসেছেন।

কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি অক্টোবর মাসের ১৪ তারিখ পর্যন্ত নরমাল ডেলিভারির ক্ষেত্রে এখানে কোনো গর্ভবতী মা ভর্তি হননি। গত তিন মাসের মধ্যে সেপ্টেম্বরে ১১ জন, আগস্টে ১০ জন ও জুলাইয়ে ৯ জন গর্ভবতী মায়ের এখানে নরমাল ডেলিভারি করানো হয়েছে। আর তিন মাসে ১ হাজার ৫৭৬ জন মা ও শিশুকে সাধারণ চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পরিবার পরিকল্পনাসেবায় চলতি মাসের ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত ১৬ জন স্থায়ী পদ্ধতি এবং ইমপ্লান্ট (অস্থায়ী) গ্রহণ করেছেন ৩২ জন। গত তিন মাসের মধ্যে স্থায়ী পদ্ধতি নিয়েছেন সেপ্টেম্বরে ৩১ জন, আগস্টে পাঁচ জন ও জুলাই মাসে ১৩ জন। আর ৭২ জন তিন মাসে ইমপ্লান্ট পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন।

এ বিষয়ে কেন্দ্র ইনচার্জ ও মেডিক্যাল অফিসার ডা. মো. আব্দুল লতিফ (এমসিএইচ-এফপি) জানান, তিনি প্রায় দেড় মাস হলো দায়িত্বে আছেন। আগতদের সব ধরনের সেবা দেওয়া হচ্ছে। এখানে যাবতীয় সুবিধা থাকলেও নরমাল ডেলিভারির ক্ষেত্রে এখানে আসা গর্ভবতী মায়েদের সংখ্যা খুবই কম। তিনি হাসপাতালের সুবিধার কথা স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে ব্যাপক প্রচারণার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান।