পানির চাপে ভেঙে গেছে বেড়িবাঁধের ১৫০ ফুট

বিস্তীর্ণ এলাকা প্ল­াবিত

বিধান চন্দ্র ঘোষ, দাকোপ (খুলনা) সংবাদদাতা  

দাকোপের খোনা এলাকায় ওয়াপদা বেড়িবাঁধ ভেঙে ব্যাপক এলাকা প্ল­াবিত হয়েছে। পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে পার্শ্ববর্তী তিলডাঙ্গাসহ দুইটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার হেক্টর আমন খেত। বিপাকে পড়েছে প্রায় ৫ হাজার পরিবার। কাঁচা ঘরবাড়ি ধসে গেছে। পাউবো ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগে ভাঙন কবলিত স্থানে বাঁধ পুনর্নির্মাণের কাজ চলছে। তাছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে একই ইউনিয়নের লক্ষ্মীখোলা কামারবাদ খেয়াঘাট সংলগ্ন ও বানিশান্তা ইউনিয়নের পূর্ব ঢাংমারী এলাকার বেড়িবাঁধ।   

স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহাবুদ্দিন মোল্যা জানান, গত অমাবস্যায় অতিরিক্ত পানির চাপে উপজেলার পানখালী ইউনিয়নের খোনা মোল্যা বাড়ির সামনে পাউবোর প্রায় ১৫০ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙে ঢাকী নদীগর্ভে বিলিন হয়। গত আট দিন যাবত্ বাঁধ পুনর্নির্মাণের চেষ্টা চালিয়েও ভাঙনকবলিত স্থানে বাঁধ আটকানো সম্ভব হয়নি। তবে দুই-এক দিনের মধ্যে আটকাতে পারবেন বলে আশা করছেন। এতে আমন ফসলসহ জনসাধারণের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে বলে তিনি জানান।

খোনা এলাকার আক্রাম ফকির, মান্নান ফকির, জুলফিকার সানাসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, পানিবন্দি থাকার কারণে তাদের কাঁচা ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে। যে কারণে তারা খোলা আকাশের নিচে আছেন। তাছাড়া এক মাত্র আমন ফসল নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বানিশান্তা ইউপি চেয়ারম্যান সুদেব কুমার রায় জানান, পূর্ব ঢাংমারী খ্রিস্টান বাড়ির সামনে ব্লক ও ডাম্পিং ধসে ওয়াপদা বেড়িবাঁধে ফাটল ধরেছে। এই মুহূর্তে মেরামত না করলে যে কোনো সময়ে বাঁধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত হতে পারে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, ভাঙনকবলিত স্থানে বাঁধ মেরামতের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল ওয়াদুদ জানান, ভাঙনকবলিত স্থানে প্রশাসনের উদ্যোগে ১০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ ও ৫০০ প্যাকেট শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে। দুই-এক দিনের মধ্যে বাঁধ আটকানো সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।