নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণ মামলা
হাবিবুর রহমান বাদল, নারায়ণগঞ্জ
ফতুল্লার পশ্চিম তল্লায় মসজিদে বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় চার্জশিট চূড়ান্তের পথে। মামলায় ইতিমধ্যে ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা সিআইডির অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি, ঢাকা বিভাগ) মো. ইমাম হোসেন জানান, মামলাটির তদন্ত শেষ পর্যায়ে। অবহেলায় মৃত্যুর অভিযোগে তিতাস, ডিপিডিসি ও মসজিদ কমিটির লোকজনকে অভিযুক্ত করা হবে। সিআইডি সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ৩৬ জনের বিষয়ে কাজ চলছে। এই ৩৬ জনের মধ্যে তিতাসের আট জন, ডিপিডিসির দুই জন ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতিসহ ২৬ জন সদস্য রয়েছেন। তবে এটা কম-বেশি হতে পারে। আরো গভীর তদন্ত চলছে। তবে এর মধ্যে তিতাস গ্যাসের ফতুল্লা অঞ্চলের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, উপব্যবস্থাপক মাহমুদুর রহমান, সহকারী প্রকৌশলী এস এম হাসান শাহরিয়ার, সহকারী প্রকৌশলী মানিক মিয়া, কর্মী ইসমাইল প্রধান, সাহায্যকারী হানিফ মিয়া, সিনিয়র উন্নয়নকারী আইউব আলী ও সিনিয়র সুপারভাইজার মনিবুর রহমান চৌধুরী এবং অভিযোগপত্রে ডিপিডিসি নারায়ণগঞ্জ পূর্ব অঞ্চলের মিটার রিডার আরিফুর রহমান ও বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি মোবারক হোসেন রয়েছেন।
তাদের মধ্যে তিতাসের আট জন কর্মকর্তা-কর্মচারী, ডিপিডিসির দুই জন গ্রেফতার হয়েছেন। তাদের মধ্যে বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি মোবারক হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ছেন। তিতাসের আট জন কর্মকর্তা-কর্মচারী জামিনে বেরিয়ে গেছেন। এর আগে সিআইডির নারায়ণগঞ্জ বিশেষ পুলিশ সুপার নাছির উদ্দিন আহম্মেদ জানান, এ ঘটনায় মসজিদ কমিটির গাফিলতি আছে। প্রয়োজনে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তিতাস ও বিদ্যুতের সংশ্লিষ্টদের গাফিলতি আছে। তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। তাছাড়া তিতাসের কে ঘুষ চেয়েছিলেন, সেই ব্যক্তিকেও চিহ্নিত করার কাজ চলছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর মসজিদে বিস্ফোরণে ৩৭ জন দগ্ধ হয়। তাদের মধ্যে অন্তত ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনো হাসপাতালের আইসিইউতে আশঙ্কাজনক রয়েছেন দুই জন। বিস্ফোরণের ঘটনায় ৫ সেপ্টেম্বর ফতুল্লা থানার এসআই হুমায়ন কবির বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে ফতুল্লা থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। তিতাস সূত্রে জানা যায়, কোম্পানিটির পরিচালক (অপারেশন) প্রকৌশলী রানা আকবর হায়দারের নেতৃত্বে দুটি বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় তিতাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে। দুটি কমিটিই তাদের প্রতিবেদনে অগ্নিকাণ্ডে তিতাসের কর্মকর্তাদের কোনো রকম সম্পৃক্ততা পায়নি। কমিটিগুলোর এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছে তিতাস। একই সঙ্গে তাদের চাকরিতেও পুনর্বহাল করা হয়েছে। গত ৫ অক্টোবর থেকে তিতাসের আট কর্মকর্তা কাজে যোগ দিয়েছেন।