ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী (নিক্সন চৌধুরী) গতকাল রবিবার দুপুরে ভাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের মাসিক সমন্বয়সভায় প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রকিবুর রহমান খান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল আমিন মিয়ার নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে অভিযোগ করেন। অভিযোগ শুনে নিক্সন চৌধুরী বলেন, কোনো অপশক্তির কাছে মাথা নত করবেন না। অনিয়ম ও দুর্নীতিবাজরা যত ক্ষমতাধরই হোক না কেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছেন। দুর্নীতি প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মনে রাখবেন, দুর্নীতিবাজরা সব সময়ই দুর্বল। তাদের ফাঁকা আওয়াজে ভয় না পেয়ে সরকারের দেওয়া দায়িত্ব আপনারা পালন করুন।
এ সময় নাসিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লাবলু মিয়া বলেন, নাসিরাবাদ এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদ খননের বালু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্থানীয় লোকদের কাছ থেকে জমি লিজ নিয়ে সেখানে বালু ভরাট করে প্রতিদিন শত শত ট্রাক বালু বিক্রি করছেন। সরকার যদি ঐ বালু টেন্ডার দিত, তবে সরকারের খাতায় এতদিন অর্ধকোটি টাকা জমা হতো।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে বাড়ি তৈরি করার একটি প্রকল্প দেন। সেই প্রকল্পের ফাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তার কাছ থেকে জোর করে নিয়ে যান। কিছু মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে পরামর্শ করে আমার কাছ থেকে জোর করে সই নেন তিনি।’
উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মালেক বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ির ব্যাপারে কয়েক দিন আগে রাতে আমাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তার বাসভবনে ডেকে নিয়ে সই করতে বলেন এবং জোর করে সই করিয়ে নেন।’
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার আবুল বাসার বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ির ব্যাপারে ইউএনও আমাদের নেতৃস্থানীয় কারো সঙ্গে আলাপ করেননি। তার সমমনা কয়েক জনকে বাড়ি দেওয়ার পাঁয়তারা করছেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘ভাঙ্গা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের একাধিক দোকান ভাড়ার জামানত হিসেবে দেওয়া প্রায় অর্ধকোটি টাকার কোনো হদিসই আমরা পাচ্ছি না।’
উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা ইসাহাক মোল্লা বলেন, ভাঙ্গা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে প্রায় ২ হাজার এতিম শিশু পড়াশোনা করে। এর জন্য প্রতি বছর সেখানে ২ কোটি টাকার বেশি খরচ হয়। মাদ্রাসার সামনের একটি জায়গা যেটা যুগ যুগ ধরে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ভোগ করে আসছে, বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঐ জায়গা বিভিন্ন জনের কাছে লিজ দেওয়ার নাম করে জনপ্রতি ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করছে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজী রবিউল ইসলাম, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সফিকুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. মহসিন ফকির, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা ও সংবাদকর্মীরা।