অলোক কুমার মিস্ত্রী, প্রভাষক
জীববিজ্ঞান বিভাগ
সরকারি বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ, পিরোজপুর
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, শুভেচ্ছা নিও। আজ আমি তোমাদের জীববিজ্ঞান প্রথমপত্রের ৪ অধ্যায়ের ওপর সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর উপস্থাপন করব, যা ২০২১ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
(ক) ইমাজিং ভাইরাস কী? ১
(খ) বায়োটেরোরিজম বলতে কী বুঝ? ২
(গ) চিত্র-A এর রাসায়নিক গঠন ব্যাখ্যা কর। ৩
(ঘ) উদ্দীপকের জীবাণুকে জীব ও জড়ের সংযোগসূত্র বলা হয়-বিশ্লেষণ কর। ৪
সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর
(ক) উত্তরঃ আদিপোষক থেকে পরে নতুন পোষক প্রজাতিতে রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাসকে ইমাজিং ভাইরাস বলে। ফ্লু এর প্রকৃত পোষক ছিল পাখি যা পরবর্তীতে মানুষে রোগ সৃষ্টি করে। যেমনঃ ফ্লু, ইবোলা, সার্স, করোনা ইত্যাদি।
(খ) উত্তর ঃ প্রতিপক্ষ দেশকে ঘায়েল বা ক্ষতি সাধন করতে উন্নয়নশীল দেশের ক্ষতিকর ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া তথা অণুজীবকে বা ল্যাবে ক্যালচারের মাধ্যমে জেনিটিক্যাল মডিফাইড শক্তিশালী জীবাণু তৈরি করে, জীবাণুঅস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করাকে বায়োটেরোরিজম বা জীবাণুসন্ত্রাস বলে।
যেমনঃ ইবোলা, মারবার্গ ভাইরাস এর ব্যবহার।
(গ) উত্তর ঃ ১৯৭১ সালে বিজ্ঞানী ফেলিক্স ডি. হেরেলি চিত্র-A ভাইরাসটিকে ফায নামে অভিহিত করেন। সেই থেকে এটি ব্যাকটেরিওফায ভাইরাস নামে পরিচিত। এটি দুটি অংশ নিয়ে গঠিত। যথা- মাথা ও লেজ।
১। মাথা ঃ ষড়ভূজাকৃতি প্রিজমের মতো দ্বিস্তরী প্রোটিন নির্মিত ক্যাপসিড আবরনে আবৃত। এর দৈর্ঘ্য ৯৩-১০০ ন্যানোমিটার এবং প্রস্থ ৬৫ ন্যানোমিটার। মাথার ভেতরের ফাঁপা অংশটি দ্বিস্তরী DNA অণু দিয়ে গঠিত, যা এর মোট ওজনের ৫০%। এতে ৬০,০০ নিওক্লিওটাইড ও ১৫০টি জিন বিদমান থাকে।
২। লেজঃ মাথার ঠিক পিছনের অংশটি হলো লেজ। এটি দৈর্ঘ্যে ৯৫-১১০ ন্যানোমিটার এবং ব্যাস ১৫-২৫ ন্যানোমিটার।
এটিও প্রোটিন নির্মিত ক্যাপসিড আবরনে আবৃত থাকে। কলার, বেসপ্লেট, ৬টি স্পাইক, ৬টি স্পর্শক তন্তু নিয়ে গঠিত। তবে DNA অণু থাকে না। তার পরিবর্তে লাইসোজাইম এনজাইম থাকে।
(ঘ) উত্তরঃ উদ্দীপকের ভাইরাল জীবাণুকে জীব ও জড়ের সংযোগসূত্র বলা হয়-কারণ, এর দুটো বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
একটি হলো জীবজীয় ও অন্যটি জড় বৈশিষ্ট্য।
জীবজীয় বৈশিষ্ট্য
১। ভাইরাসের দেহে নিউক্লিক এসিড ও প্রোটিন থাকে।
২। সজীব জীবকোষের অভ্যন্তরে এরা বংশবৃদ্ধি করতে সক্ষম।
৩। এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়।
৪। এতে প্রকরণ সৃষ্টি ও মিউটেশন ঘটে।
জড় বৈশিষ্ট্য
১। এটি কোন নির্দিষ্ট কোষ দ্বারা গঠিত নয়।
২। এটির জৈব রাসায়নিক কার্যাবলি অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না।
৩। এটিকে ক্রিস্টাল দানায় রূপান্তরিত করতে পারা যায়।
৪। জীবন্ত পোষক কোষের বাইরে এটি মৃতঃ অবস্থায় অবস্থান করে।
যেহেতু, উক্ত ভাইরাসটি বহিঃকোষীয় ও অন্তঃকোষীয় দশায় যথাক্রমে জড় ও জীবের মতো পরস্পর বিপরীতধর্মী আচরণ প্রদর্শন করে, তাই একে জীব ও জড়ের মধ্যবর্তী পর্যায় বা সংযোগসূত্র বলা হয়।