একে অপরকে দোষারোপ
আলজাজিরা
নাগোরনো-কারাবাখে তৃতীয়বারের মতো যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সোমবার সকাল থেকে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান এই যুদ্ধবিরতিতে ফের সম্মত হয়। কিন্তু এবারও এক পক্ষ অপর পক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে।
গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, রবিবার রাতে সেখানে বেশ গোলাগুলি হয়। পরিস্থিতির বিবেচনায় উভয়পক্ষ মানবিক কারণে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়। কিন্তু এবারও সেই আগের মতো যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘিত হয়। সোমবার সকাল ৮টা থেকে এটি কার্যকরের কথা ছিল। এ নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান একে অপরের ওপর দোষারোপ করে। আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঐদিন সকালে সমস্ত দোষ আর্মেনিয়ার ওপর চাপান। অন্য দিকে আর্মেনিয়ার প্রশাসন আজারবাইজানের ওপর দায় চাপাচ্ছে। প্রায় এক মাস ধরে নাগোরনো-কারাবাখ নিয়ে যুদ্ধে জড়িয়েছে দেশ দুটি। প্রথম থেকেই দুই দেশকে শান্তি বৈঠকে বসানোর চেষ্টা করেছে রাশিয়া। দুবার রাশিয়ার মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে উভয় পক্ষ রাজি হলেও তা কার্যকর হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই লঙ্ঘন করেছে দেশ দুটি। এর মধ্যে গত সপ্তাহে ফের দুই দেশকে আলোচনার টেবিলে বসায় মস্কো। গত বৃহস্পতিবার রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বৈঠক করেন আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। কিন্তু তাতেও জট খোলেনি। এরপর প্রথমে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং পরে মার্কিন কূটনীতিবিদদের সঙ্গে বৈঠক করেন আর্মেনিয়া-আজারবাইজানের প্রতিনিধিরা। দীর্ঘ বৈঠকের পর রবিবার সন্ধ্যায় নতুন করে যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত হয়। যুক্তরাষ্ট্র, আজারবাইজান এবং আর্মেনিয়া এ নিয়ে যৌথ বিবৃতিও প্রকাশ করে।
সেখানে বলা হয় মানবিক কারণে সোমবার সকাল ৮টা থেকে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হচ্ছে। কিন্তু সোমবার সকালেই আজেরি পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, তাদের শহর টারটারে হামলা চালিয়েছে আর্মেনিয়া। এর পর পালটা অভিযোগ তোলে আর্মেনিয়াও। তাদের দাবি, আজেরি সেনারাই প্রথম যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। তৃতীয়বার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়ে রবিবার থেকেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছিল। আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টের একটি টুইটে সেই প্রশ্ন আরো গুরুত্ব পায়। তিনি লিখেছিলেন, নিজের দেশকে রক্ষা করার অধিকার সবার আছে। আজারবাইজান নিজের দেশকে শেষ দিন পর্যন্ত রক্ষা করবে।