নিগার সুলতানা সুপ্তি
বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় হচ্ছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। পত্র-পত্রিকা, মিডিয়া টক শো সর্বত্র আলোচনা হচ্ছে এ বিষয় নিয়ে। যদিও করোনার দ্বিতীয় ঢেউ হবেই তার কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই। তবে সবাই আশঙ্কা করছেন, শীতকালে করোনার সংক্রমণ বাড়বে। এর একটি কারণ চীনে যখন করোনা ছড়াতে শুরু করে তখন সেখানে শীতকাল ছিল। পরবর্তী পর্যায়ে যেসব দেশে করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে সেসব দেশও শীতপ্রধান দেশ ছিল। ফলে সবাই বলতে লাগল শীতে করোনা ছড়ায়। গ্রীষ্মপ্রধান দেশে করোনা ছড়ায় না। ফলে বাংলাদেশে করোনা তেমনভাবে সংক্রমিত হবে না। কিন্তু আমরা পরে গ্রীষ্মপ্রধান দেশসহ নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া রয়েছে এমন দেশেও করোনার সংক্রমিত হয়েছে। তবে এসব কোনো কিছুরই কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই।
তবে হ্যাঁ, শীতের সময় যেহেতু ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ থাকে। ঘর থাকে বদ্ধ। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকে। ফলে, করোনা ভাইরাস দ্রুত ছড়ানোর সম্ভাবনাও বেশি। তাছাড়া, শীতের সময় অন্যান্য ভাইরাসের প্রকোপও বাড়ে। আবার শীতকালে ঠান্ডা সমস্যা থাকার কারণে অনেকের হাঁচি, কাশি, গলাব্যথা হয়ে থাকে যেগুলো আবার করোনার উপসর্গের মধ্যেও লক্ষণীয়। শীতকালে যাদের এ রকম সমস্যা রয়েছে তাদের করোনা সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি। এসব থেকে ধারণা করা হচ্ছে শীতে করোনার সংক্রমণ বাড়তে পারে। এ পরিস্থিতিতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ যদি আসেই তখন আমাদের সাবধানতা অবলম্বন ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আসলেই কোনো বিকল্প নেই। এখনই রাস্তাঘাটে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে বেশির ভাগ মানুষের মধ্যে অনীহা দেখা যাচ্ছে। মাস্ক ব্যবহারে অনীহা দেখা যাচ্ছে। গ্রামেগঞ্জে অনেকেই করোনাকে পাত্তাই দিচ্ছেন না। স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে নিজেদের খেয়াল খুশি মতো ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু করোনাকে হালকাভাবে নেওয়ার মতো সময় এখনো আসেনি। আমাদের কঠোরভাবেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। শীতকালে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের যে কথা বলা হচ্ছে, তা আমাদের এই অসচেতনভাবে চলাফেরা ও স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণেই সংক্রমণ বৃদ্ধি পেতে পারে। এই দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। জনসাধারণকেও এই সংক্রমণ মোকাবিলায় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে। হাঁচি-কাশির সমস্যা থাকলে জনসমাগম বা পাবলিক প্লেসে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। যেখানে-সেখানে কফ-থুথু-পানের পিক ফেলার বদ অভ্যাস পরিহার করতে হবে। অর্থাত্ কাশি শিষ্টাচার মেনে চলতে হবে।
মাস্ক, সাবান আর স্যানিটাইজার—এই তিন অস্ত্রেই যেন সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে মহামারি কোভিড-১৯ কে ঘায়েল করার। এর সঙ্গে বলা হচ্ছে শারীরিক দূরত্ব আর হাঁচি-কাশি শিষ্টাচারের কথা। অনেকেই বলছেন সবচেয়ে বেশি দরকার লাইফ স্টাইল বা জীবনাচরণ পরিবর্তনের। অর্থাত্ হাঁচি বা কাশি দেওয়ার সময় হাত, টিস্যু বা রুমাল দিয়ে মুখ ও নাক ঢেকে রাখতে হবে। এক্ষেত্রে টিস্যু ব্যবহার করলে তা সঙ্গে সঙ্গে উপযুক্ত স্থানে ফেলতে হবে। আর রুমাল ব্যবহার করলে তা ধুয়ে ফেলতে হবে। হাঁচি-কাশির এই শিষ্টাচার কেবল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণই নয়, বেশির ভাগ ফ্লু (সর্দি-ঠান্ডার কারণ) ছড়ানো ঠেকাতে সক্ষম। তাই করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় কাশি শিষ্টাচারকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
n লেখক :শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়