নাটোর প্রতিনিধি
নাটোর বিআরটিএ অফিস ঘিরে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি দালাল চক্র। করোনা ভাইরাসের কারণে বেশ কয়েক মাস বন্ধ ছিল বিআরটিএর কার্যক্রম। সম্প্রতি কার্যক্রম শুরু হওয়ার পরপরই বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের স্থানীয় অফিসটি ফিরেছে পুরোনা চেহারায়।
হালকা ও ভারী যানবাহনের জন্য সরকার নির্ধারিত লার্নার ফি ৩৪৫ টাকা। এরপর ৫ বছর ও ১০ বছর মেয়াদি পেশাদার-অপেশাদার লাইসেন্সের জন্য যথাক্রমে ১ হাজার ৬৭৯ ও ২ হাজার ৫৪২ টাকা জমা দিতে হয়। কিন্তু দালালচক্র লাইসেন্স প্রতি ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। তবে দালালদের নিয়ে বিআরটিএর কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য। একজন দালাল এ বিষয়ে স্বীকার করলেও আরেক জন অস্বীকার করছেন।
মোটরযান পরিদর্শক নেসার আহমেদ জানান, বিআরটিএর বাইরে এবং ভেতরে কোনো দালাল নেই। দালাল বিষয়ে তথ্য-প্রমাণের বিষয়টি তুলে ধরলে তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাবেন। নাটোর বিআরটিএ সহকারী পরিচালক সাইদুর রহমান জানান, অফিসটি দালাল মুক্ত করতে তিনি আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এজন্য সকলের সহযোগিতা চান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক জন সেবাগ্রহিতা জানান, দালাল না ধরলে লাইসেন্স পেতে মাসের পর মাস ভোগান্তি পোহাতে হয়। অন্যদিকে গাড়ির লাইসেন্স না থাকলে জরিমানা গুনতে হয়। তাই দ্রুত লাইসেন্স পেতে দালাল না ধরে উপায় থাকে না।
জনগণের ভোগান্তি দূর করতে বিআরটিএ অফিসের অনিয়ম দুর্নীতি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেবার কথা জানিয়েছেন পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা এবং জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল আহমেদ। তারা বলেন, বিআরটিএ অফিসে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এর আগে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপে বিআরটিএ অফিস দালাল মুক্ত হয়েছিল। করোনা ভাইরাসের কারণে কয়েক মাস অফিসটি বন্ধ ছিল। সম্প্রতি কার্যক্রম শুরু হবার পর দালালচক্র আবারও মাথাচারা দিয়ে উঠেছে। তাদের সবাইকে আইনের আওতায় এনে বিআরটিএ অফিস দালালমুক্ত করা হবে।