নিকলী (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা
নিকলী উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ৩৭ পদের মধ্যে ২২ পদ শূন্য রয়েছে। এ কারণে কৃষকদের পরামর্শ ও প্রণোদনা দান, মাঠ পর্যায়ে তদারকি ও দাপ্তরিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। সিংপুর গ্রামের কৃষক মো. সুনামদ্দিন বলেন, গত বছর তার ধানখেতে রোগবালাই দেখা দেয়। রোগবালাই দমনে পরামর্শের জন্য কৃষি কার্যালয়ে একাধিকবার গিয়েও কোনো সহযোগিতা পাননি। এতে ফসলের অনেক ক্ষতি হয়। এ ছাড়া আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ সম্পর্কে পরামর্শের জন্য সময়মতো কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠে পাওয়া যায় না।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ কার্যালয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পদ ৩৭। এর মধ্যে ১৫ পদে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কর্মরত রয়েছেন। বদলি ও অবসরজনিত কারণে ২২ পদ শূন্য হয়েছে। এখানে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার ২০ পদে কর্মরত আছেন ৯ জন। ১১ পদ প্রায় দুই বছর ধরে শূন্য। এ ছাড়াও অফিস সহকারী, পরিমাপক, পিপিএম, মেকানিক, উদ্ভিদসংরক্ষণ কর্মকর্তা, কৃষিসম্প্রসারণ কর্মকর্তা, করণিক ও কম্পিউটার সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, অফিস কাম মুদ্রাক্ষরিকসহ ২২ পদ প্রায় এক বছর ধরে শূন্য রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, ৩৭ পদের মধ্যে বদলি ও অবসরের কারণে ২২ পদ শূন্য হয়েছে। পদগুলো দীর্ঘদিন ধরে খালি থাকায় তার উপজেলায় মাঠপর্যায়ে কৃষকদের উন্নত ও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে ফসল উত্পাদন, ফসল আবাদে সার্বিক তদারকি এবং ফসলের রোগবালাই দমনে পরামর্শ কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, তার কার্যালয়ে কম্পিউটার অপারেটর ও অন্যান্য পদে লোক না থাকায় দাপ্তরিক কার্যক্রম তাকেই করতে হচ্ছে। এসব করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। কৃষক ও কৃষিসংক্রান্ত পরামর্শের মতো মূল কাজগুলো যথাযথ ও ভালোভাবে করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এসব শূন্য পদে লোক দেওয়ার জন্য কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরে কয়েকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে। কাজ হচ্ছে না।