বিশ্বনাথ-জগন্নাথপুর সড়কে অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়ি

তজম্মুল আলী রাজু, বিশ্বনাথ (সিলেট) সংবাদদাতা

সিলেটের বিশ্বনাথ-জগন্নাথপুর সড়ক প্রশস্তকরণ ও সংস্কার কাজের ধীরগতিতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন জনসাধারণ। উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের সঠিক তদারকি না থাকায় অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়ি আর কাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সময়ক্ষেপণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। প্রায় ১১টি মাস ধরে যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়ায় চলাচল করতে হচ্ছে। জনবহুল ঐ সড়কে অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়িতে প্রতিনিয়তই যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। গর্ভবতীসহ জরুরি রোগীদের নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে অনেক অভিভাবককে।

গত ডিসেম্বর মাসে উপজেলা সদর থেকে বিশ্বনাথ সীমানা মিয়ারবাজারের পশ্চিমে জগন্নাথপুর সীমানা পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ ও সংস্কার কাজ শুরু করে মেসার্স শাওন এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। আর এ কাজের তদারকি করছে উপজেলা প্রকৌশলী অফিস। দীর্ঘ ১১ মাসে মাত্র দুই কিলোমিটার কাজও সম্পন্ন করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। প্রায় ১০ দিন আগে অপরিকল্পিতভাবে হরিকলস তালুকদার বাড়ির গেটের সামনে থেকে কালীগঞ্জ বাজারের মাদাই সেতু পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কের অর্ধেক অংশে তিনফুট গর্ত করে রাখা হয়েছে। বাকি অর্ধেক অংশ রাখা হয়েছে যানবাহন চলাচলের জন্য। কিন্তু ঐ এক কিলোমিটার দূর থেকে এক প্রান্তের গাড়ি লাইনে দাঁড় করিয়ে অন্য প্রান্তের গাড়ি ছাড়া হয়। এতে অন্য প্রান্তের গাড়ি ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছে আর ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। তার পরও অনেকটা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হেলেদুলে সকল প্রকার যানবাহনকে চলাচল করতে হচ্ছে। এভাবে আর দু-এক দিন গেলে মাদাই হাওর খালের পাড় ধসে পড়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এদিকে প্রায় তিন দিন ধরে ঐ গর্ত করা এক কিলোমিটার সড়কের কাজ বন্ধ রয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী জাকির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি সাইটে থাকা সুহেল মিয়া নামে এক জনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু সুহেল মিয়া বলেন, ঐ এক কিলোমিটার সড়কের অর্ধেক অংশ খোঁড়ার বিষয়টি তার জানা নেই। আর উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী প্রদীপ চন্দ্র দেবনাথ ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘বেশি কথা বললে তো আর কাজ করা সম্ভব হবে না।’